তারপর ।
তারপর স্বার্থহীন , নির্লোভ ভালোবাসাহীন এক পৃথিবীতে আমি নতুন করে গাঁথবো তোমাদের সকল প্রতারিত ভালোবাসার মালা ।।
বলবো না তুমি প্রতারক
সত্যি সত্যি তুমি প্রতারক হলেও
ভাববো না তুমি প্রতারক
ভাববো এটা প্রতারিত ভালোবাসা,
প্রতারিত পৃথিবী ।।
ত্রাণ চাহিয়া পত্র
ঘূর্ণিঝড় সিডর ও এর পরবর্তী ঘটনাবলী প্রত্যেকেরই জানা। নতুন করে তা বলা নি:প্রয়োজন। আক্রান্ত বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে এখন কেবলই বেঁচে থাকার হাহাকার। প্রলয় ঝড়যুদ্ধ উপক্ষো করে যারা জয়ী হয়েছে, ক্ষুধা দারিদ্র আর অসহায়তার কাছে তারা এখন পরাজিত। প্রতিমূহুর্তের এই মরে যাওয়ার চেয়ে সে রাতেই মরে যাওয়া বুঝিবা ভালো ছিলো।
এখনো মানুষগুলোর প্রাথমিক চাহিদা কেবল একবেলার খাবার, একটু মাথা গোঁজার ঠাঁই। আশার কথা যে সবাই সবধরনের চেষ্টা করছে। আমরা বন্ধুর পক্ষ থেকেও কিছুটা চেষ্টা করা গেছে (হা হা হা হা... লিখে রেখো এক ফোঁটা দিলেম শিশির)।
মহামারী বা দূর্ভিক্ষাবস্থা এখনো তৈরি হয়নি। তবে হবে যে না তা এখনো নিশ্চিত বলা যাচ্ছেনা। এক দুইবেলা খাবার দিয়ে ওদের বাঁচিয়ে রাখা যাবে কেবল, কিন্তু ওদের হাতে তুলে দিতে হবে বেঁচে থাকার অবলম্বন। সংগ্রামটা ওরা করতেই জানে, হাতিয়ারটুকু কেবল চায়।
আমরা বন্ধু উদ্যোগ নিয়েছে সেই হাতিয়ার কিছুটা হলেও যোগান দেওয়ার। আমাদের সীমিত সামর্থ্য। খুব বড় কিছু করার বা করতে চাওয়ার ধৃষ্ঠতা নেই। তবু যতটুকু সম্ভব চেষ্টা করা। অন্তত গোটা কয়েক পরিবারকে যদি সাবলম্বী করে তোলার পথে তুলে দেওয়া যায়, মন্দ কি ?
আর এই উপদ্রুত অঞ্চলের মানুষদের সাবলম্বী করাটা সহজই। একটা মাছধরার নৌকা আর একটা জাল- এই হলেই তারা আবার পাড়ি দেবে উত্তাল সমূদ্র, ধরে ধরে আনবে চিকচিকে রুপোলী মাছ, ওরা আর ত্রাণ চাইবেনা। সত্য।
অথবা কাউকে একটা ছোট্ট দোকান করে দেওয়া, অথবা কাউকে একটা রিক্সা কিনে দেওয়া। তাতেই তাদের পুরো পরিবার বেঁচে বর্তে থাকবে।
আমরা বন্ধু বন্যার সময়ও এরকম উদ্যোগ নিয়েছিলো। এবারও নিলো। এবার প্রচেষ্টা আরো বেশি সংখ্যক পরিবারের পাশে দাঁড়ানো। এতগুলো মানুষ আমরা, পারবোনা ?
নিশ্চয়ই পারবো...
আপনি আমি একটু ইচ্ছা করলেই কিছু টাকা এখানে দিয়ে দিতে পারি। যে যতটুকু পারি... তাই দিই।
ডিসেম্বরের কোনো একটা সময়ে আমরা বন্ধুর একটি দল যাবে দূর্গতাঞ্চলে... তার আগেই ফুলে ফেঁপে উঠুক এই ভান্ডার...
বন্ধুরা.. আপনাদের অনেকের প্রিয় amraBONDHU ইয়াহু গ্রুপস আজ সামহোয়ার ইন এর পাশে। একটি অনলান গ্রুপও যে মানুষের পাশে দাড়াতে পারে [aB] সেটাই করে দেখালো.
আমরা বন্ধু ইয়াহু গ্রুপ কি?
২০০৪ সালের অক্টোবর মাসে [aB]'র যাত্রা শুরু হয়। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ১৮০০+ বাংলাদেশের মানুষকে একি সুতায় বেধে রেখেছে। কখনো হাসি... কখনো কান্না.. কখনো বা হৈচৈ... সব কিছু আমরা একত্রে শেয়ার করেছি। যে কোন কোন জাতীয় দূর্যোগে [aB]'র সদস্যরা সব সময় সামর্থের মধ্যে থেকে চেষ্টা করেছে... আর তার ই ধারাবাহিকতায় আমাদের সামর্থের হাত সামহোয়ারইন এর দিকে বাড়ালাম।
সামহোয়ারইন [aB]'র ব্লগারগন আপনাদের অশেষ ধন্যবাদ।
আশা করছি অন্যান্য সংগঠন গুলোও এইভাবে এগিয়ে আসবে তাদের সামর্থের মধ্যে থেকে।
amrabondhu@yahoogroups.com
mail@amrabondhu.com

ঘুর্ণিঝড়ে বেচে যাওয়া মানুষ জন মনে করছে যারা মরে গেছে তারা আসলে বেচে গেছে। ক্ষুধার কি জ্বালা তা তাদের দেখতে হচ্ছে না। এসব অঞ্চলের এমন কোন পরিবার নেই, এই ঝড়ে যাদের কেউ মারা যায়নি। সিডর যে সব অঞ্চলে আঘাত হেনেছে সেখানে ধ্বংসস্তুপ ছাড়া আর কোন কিছুরই অস্তিত্ব নেই। লোকালয়কে বিরাণ করেছে, ফসলের মাঠ হয়ে গেছে প্যারেড গ্রাউ-। দুবলার চরের কেউ বেঁচে আছে কিনা তা নিয়ে সন্দিহান সবাই। স্মরণখোলার মানুষ প্রতিদিন অপেক্ষায় থাকে কখন ত্রাণ নিয়ে আসবে।
পুরো একটা সপ্তাহ পেরিয়ে গেল। ঘূর্ণি উপদ্রুত জেলাগুলোতে এখনো স্বজন হারানোর কান্নায় বাতাস ভারি। আবার নতুন করে ঘুড়ে দাড়ানোর স্বপ্ন আজ আর কেউ দেখছে না। বিভিষিকা আজ তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে উপকুল অঞ্চলের প্রতিটি মানুষকে। প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ে এইসকল ক্ষতিগ্রস্থ মানুষগুলোর স্বপ্ন ভেঙ্গে চুড়মার করে দিয়ে গেছে।
অবস্থাটা এমন দাড়িয়েছে যে, স্বজন হারানোর শোকের চাইতে রিলিফ পাওয়াটাই অনেক বেশী জরুরী হয়ে পড়ছে। যারা বেচে আছে তাদের জীবন ধারণটাই এখন আরো কঠিন হয়ে পড়ছে। খাবার পানির সংকট তীব্র। মানুষগুলো এই পর্যন্ত এক বস্রে জীবন ধারণ করছে। ঝড়ে ভিজে যাওয়া চাল রোদে শুকিয়ে মানুষ একবেলা খেয়ে জীবন ধারণ করছে।
খালবিল-নদীগুলোতে ভাসছে গরু-ছাগল এর গলিত লাশ। মৃত পশুপাখির দূর্গন্ধে বাতাস দূষিত হয়ে উঠেছে। অপ্রতুল ত্রাণ তৎপরতার কারণে দূর্গতদের মধ্যে আহাজারি চলছে। এখনো অনেক জায়গায় বাইরের কেউ পৌছেইনি। ঢাকায় বসে যতটুকু জানতে পারছি পরিস্থিতি তার চাইতে অনেক অনেক ভয়বহ। বেড়েই চলছে লাশের সংখ্যা। উপদ্রুত এলাকায় যতবার ফোন করছি আশাব্যাঞ্জক কিছুই শুনছি না।
আর ওইদিকে... যৌথবাহিনীর ভয়ে অনেক ইউনিয়নের এমপি/চেয়ারম্যান/মেম্বার পালাতক/জেলে। জনগণের সাথে সরকারের একমাত্র সংযোগ তাই আজ বিচ্ছিন্ন। মাঠ পর্যায়ে সরকার কঠিন এক চ্যালেঞ্জের সম্মুখে। তারা যতই বড় বড় বুলি ছাড়ুক পরিস্থিতি ভিন্ন। স্বজন হারা দুর্যোগ কবলিত মানুষগুলোর আমরা ছাড়া সত্যি কেউ নেই তাদের দেখার।
এখন মূল কাজ হবে বেঁচে থাকা মানুষগুলোকে বাচিয়ে রাখা। মানুষগুলোর মনোবলকে আবার উজ্জিবিত করে তোলাটা খুবি জরুরী। আবার ঘুড়ে দাড়ানোর স্বপ্নের বীজ তাদের মধ্যেই বপন করতে হবে। যার যার অবস্থান থেকে যতটুকু করা সম্ভব.. তাতেই চলবে। দিন না আপনার হাতটা একটু বাড়িয়ে। আপনার দেয়া কিছু টাকা... কিছু খাবার... কিছু কাপড়... ক্ষতিগ্রস্থ মানুষেদের মুখে হাসি ফোটাবে
”আবার জমবে মেলা বটতালা হাট তলা”... একি সুরে গাইবার এই সুযোগটুকু এই দুঃখি মানুষগুলোকে করে দিন না ... প্লিজ
দেশের দক্ষিন উপকূলের বিস্তীর্ণ এলাকা আজ ধ্বংসস্তুপে পরিনত। বিপর্যস্ত জনজীবন। কোথাও প্রানের চিহ্ন নেই। চরদিকে কেবল ধ্বংসযজ্ঞ। পুরোটা এলাকা জুড়ে লাশের মিছিল। মৃতের সংখ্যা বাড়ছে ঘন্টায় ঘন্টায়। স্বজন হারানো মানুষের আহাজারিতে বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে। ত্রানের আশায় ছুটছে অভূক্ত মানুষগুলো।
বন্যার করাল-গ্রাসে সহায় সম্বলের অবশিষ্ট অংশটুকু নিয়ে মানুষ যখন আবার ঘুড়ে দাঁড়ানোর স্বপ্নে বিভোর ছিলো ঠিক তখনি প্রলয়ঙ্করী ঘূণীঝড় দক্ষিন পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের সেই স্বপ্নকে দুমড়ে মুচড়ে নি:স্ব করে দিলো। একটি মাত্র রাতের ব্যবধানে বেঁচে থাকার শেষ সম্বলটুকুও হারিয়ে মানুষ আজ পথে পথে। গৃহহারা হাজার হাজার পরিবার খোলা আকাশের নিচে ঠাই নিয়েছে। মাথার ওপর নেই মাথা গোঁজার এক চিলতে ছাদ। পথে পথে গবাদী পশুর মৃতদেহ । নেই বিশুদ্ধ পানি, অনেক বেশি ঝুঁকির মধ্যে আছে ওই অঞ্চলের শিশুরা।
এখন জরুরী প্রয়োজন:
১. খাদ্য - শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ খাবার পানি
২. আশ্রয় - ধ্বংশ হয়ে যাওয়া কাঁচা ঘরবাড়ি মেরামতের সহযোগিতা।
৩. স্বাস্থ্য সেবা
যা করা হচ্ছে:
সরকার এর পাশাপাশি সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমান বাহিনীর পাশাপাশি রেডক্রিসেন্ট তাদের বিশাল স্বেচ্ছাসেবক বহিনী নিয়ে বরাবরের মতো দূর্গত মানুষের পাশে রয়েছে।
দারিদ্র পীড়িত এই জনপদের মানুষ গুলো উৎপাদনহীনতায় যখন দিন দিন নি:স্ব হয়ে পরছে, পানির লবনাক্ততায় ফসল উৎপাদন কমছে, তখন আরো একটি বিপর্যয়ে মানুষ আজ কিংকর্তব্যবিমুঢ়। মুক্ত বাজার অর্থনীতির দোহাই দিয়ে বাজার পুরোটাই আমদানি নির্ভর করা হয়েছিল বহু আগেই। ফলশ্রতিতে নিজস্ব সম্পদ বৃদ্ধির বদলে ছোট ছোট শিল্প কারখানাকে আজ বন্ধ করে দিয়ে আমরা হয়েছি আমদানী নির্ভর। এর-ই ধারাবহিকতায় আজ দ্রব্যমূল্যর ঊর্ধ্বগতিতে মধ্যবিত্তের জীবনে আজ নাভিশ্বাস। সাধারণ জীবন যাপনেই আপনাদের হিমশিম খেয়ে যেতে হচ্ছে।
আপনাদের কাছে সাহায্যের আহ্বান জানাতে কষ্ট হয়। দেশেই তো থাকি.. বাস্তবতা ভয়াবহ।
দূর্যোগ কবলিত এই মানুষগুলো আমাদের-ই কারো ভাই.. .. কারো বোন.. .. কারো বাবা.. কারো মা.. আমরা ছাড়া তাদের আর কে আছে বলুন? ৫/৫০/১০০ যার যতটুকু সামর্থ আছে সেইটুকু নিয়েই না হয় আপনার হাতটা বাড়িয়ে দিন .. প্লিজ.. .. এই দেশটাতো আমাদেরই... চলুন না একটু অল্প খেয়ে সবাই এক সাথে বাঁচি...
রাহেলা জন্য একটা আইপিটিশন খোলা হয়েছে - দয়া করে লগ ইন করে সাইন করুন।
http://www.ipetitions.com/petition/Justice_for_Rahela_Bangladesh/
================
এই আমার দুই পয়সার মানুষরা যুথবদ্ধ হয়ে ভেলরীকে তার প্রাপ্য সন্মান পূনর্বহাল করার প্রচেষ্টায় একসাথে কাজ করেছি... বন্যা দুর্গতদের জন্য সামর্থ অনুযায়ী সহযোগীতা করেছি। এই আমরাই আবার সফি সামির মতো মানুষকে হটিয়ে ভেলরীকে তার স্বপদে পুনর্বহাল করেছি। আমি আবার এসেছি রাহেলার জন্য। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে এক সন্ধ্যয় ধর্ষিত হয়ে খুন হয়ে যাওয়া রাহেলার কথা আপনারা সবাই জানেন। তাকে নিয়ে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিস্তারিত আরিফ জেবতিকের একটি লেখাথেকে সংগ্রহ করে আপনাদের জন্য দিলাম। আশাকরি বরাবরের মতো আপনাদের সহযোগীতার হাত সম্প্রসারিত থাকবে। আসলে মানুষে একা কিছুই নয়... সম্মিলিত শক্তি অনেক অসাধ্য সাধন করতে পারে। আপনাদের সহযোগীতা কামনায়...
=============================================
ভীষন রকম অস্থিরতায় আছি গত দুইদিন ধরে ।এই অস্থিরতাকে ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না ।অফিসের কাজে মন বসছে না,বাসায় মন বসছে না, আড্ডা ভালো লাগছে না, সিগারেটের ছাই এ্যাশট্রে উপচে টেবিলে মাখামাখি হচ্ছে।এই অস্থিরতাটুকু আমি ভুলে থাকতে চাইছি প্রানপন, মুখোশ লাগিয়ে হাসতে চাইছি, বাচঁতে চাইছি আমার নিজের নিরাপদ গন্ডির ভেতর ।পারছি না,আমি পারছি না।রাত গভীরে ঘুমের মাঝে হানা দিচ্ছে একটি করুণ মুখ ।
কানের কাছে বারবার শুনতে পাই একটা কথা,"আমি মরি নাই ভাই,আমাকে বাচাঁন ।"আমি রাহেলার কথা বলছি। যে রাহেলা গভীর অন্ধকার রাতে গলাকাটা অবস্থায় শুয়ে ছিল এক ঝোপের মাঝে সেই রাহেলার কথা ।সেই রাহেলা,যে কোন অপরাধ করে নি,যে কাউকে কষ্ট দেয় নি,কিন্তু এক সন্ধ্যায় তার জীবনটা এলোমেলো করে দিল কয়েকটা পশু ।রাহেলা শুয়ে ছিল গলাকাটা অবস্থায়, রাহেলা একফোটা পানির জন্য কাতরাচ্ছিল, রাহেলা আল্লাহকে ডাকছিল সারারাত জুড়ে, তার আশেপাশে উকি দিচ্ছিল নিশাচর শেয়াল, তার গলায় কামড়াচ্ছিল বিষপিপড়া, রাহেলা ছোট্ট ঘরটি ঐ গ্রামে তার অপেক্ষায় ছিল.....সেই রাহেলা যে তার তীব্র প্রানশক্তি দিয়ে বেচেঁ ছিল, যার তৃষ্ঞার্ত মুখে এসিড ঢেলে দিয়েছিল সেই পশুরা, তবু রাহেলা সব হিসেব নিকেশ অস্বীকার করেছিল ,রাহেলা আশা করেছিল যদি সে আর কিছুক্ষন বেচেঁ থাকে,তাহলে আমরা, এই সভ্যজগতের মানুষরা তাকে বাচিঁয়ে ফেলতে পারবো। রাহেলা আমাদের কাছে এসেছিল, আমরা তাকে বাচিঁয়ে রাখতে পারি নি ।আমরা রাহেলাকে ভুলে গেছি,সেই রাহেলাকে যে তার অপার জীবনীশক্তি দিয়ে কয়েকটি অন্ধকার রাত পেরিয়ে আমাদের কাছে এসেছিল। সে আমাদের হাত ধরেছিল ।আমরা সেই হাত ধরে রাখতে পারি নি ।আমাদের হাতের মুঠি আলগা করে রাহেলা চলে গেছে অন্যলোকে,আর আমরা হাত মুছে ফিরে গেছি নিজেদের যাপনে ।এ আমরা কী করেছি?হায়,এ আমরা কী করেছি ?আমাদের রক্তে যদি মানুষের কিছু থাকে,আমাদের শিক্ষা,আমাদের জীবনের আরো যতো সুখ দূ:খের গল্প যদি আমাদের একবারও স্মরণ করিয়ে দেয় ,আমরা মানুষ ,তাহলে আমরা কি রাহেলার জন্য কিছুই করবো না ?এতো বড়ো একটা পাপ করে কেউ যদি পার পেয়ে যায়,তবে ধিক এই বেচেঁ থাকা,ধিক এই দেশপ্রেম,ধিক নিজের সন্তানকে আগলে রাখা,প্রেমিকার ঠোটে চুম্বন ,ধিক আত্মতৃপ্তিতে বেচেঁ থেকে নিজেকে মানুষ বলে দাবী করা ।প্রিয় ভাই আমার,প্রিয় বোন আমার,এই লেখাটি যদি আপনি পড়ে থাকেন,দয়া করে চোখ বন্ধ করুন,দয়াকরে একবার রাহেলার সেই আকুতি মাখা মুখ স্মরণ করুন ,একবার কান পেতে শুনুন রাহেলা বিচার চাইছে আপনার কাছে,রাহেলা আপনার হাতটি আকঁড়ে ধরে বাচঁতে চাইছে ।রাহেলার সেই চোখকে ফিরিয়ে দিয়েন না।রাহেলার সেই হাতটিকে ফিরিয়ে দিয়েন না ।আয়রে ভাই,হাতে হাত রাখি আরেকবার ।আরেকবার দুই পয়সার মানুষরা যুথবদ্ধ হই ।আরেকবার নিজের কাছে প্রমান করি,মানুষ আছি ।কসম খোদার,এতো বড়ো অন্যায়কে আনচ্যালেঞ্জ যেতে দেব না ।বুক টানটান করে দাড়ারে ভাই,বুক টানটান করে দাড়া ।
===================================
মানবীর পোষ্ট...
সাংবাদিকদের লেখার মাধ্যমেই তিন বছর আগে ঘটনাটি আমরা সবাই জানতে পারি। আজ পুনরায় আপনাদের সহযোগীতার প্রয়োজন কিছু ঘৃণ্য নরপশুদের কাছ থেকে আরো কিছু নাম না জানা নারী শিশু রক্ষার জন্য...
রাহেলা- ২০০৪ সালে কুলাঙ্গার লিটন যার সাথে করে মানবতার ইতিহাসের অন্যতম নিকৃষ্ট ও জঘণ্যতম বর্বরোচিত আচরন! শ্রমজীবি দরিদ্র মেয়েটির বেতনের টাকা ও গহনা ছিনিয়ে নেয়, ৩/৪ জন সহযোগী নিয়ে পাশবিক ভাবে ধর্ষন করে রাহেলাকে। সেখানেই ক্ষান্ত দেয়না নরপশুরা, নিজেদের অপকর্মের সাক্ষ্য মিটাতে হত্যার উদ্দেশ্যে ছুরি দিয়ে ক্ষতবিক্ষত করে রাহেলার শরীর। গলা কেটে দেয়, ছিন্ন ভিন্ন করে রাহেলার স্পাইনাল কর্ড! পচে মরার জন্য হতভাগিনীর ক্ষতবিক্ষত দেহটিকে ফেলে আসে ময়লা জঙ্গলে!
মানুষ রাগের মাথায় বা আতংকিত হয়ে অনেক সময় তাৎক্ষনিক ভাবে কান্ডজ্ঞান হারিয়ে ভয়ংকর কাজ করে বসে, তবে কিছুক্ষণ পর অথবা কয়েক ঘন্টা পর সম্বিৎ ফিরে পেলে অনুতপ্ত হয়। এই কুলাঙ্গার ধর্ষকদের নীচতা ও পাশবিকতা এমন ভয়াবহ যে, দু'তিন দিন পর পরিত্যাক্ত দেহটির হাল জানতে গেলে যখন দেখে রাহেলা জীবিত এবং আকন্ঠ পিপাসার্ত হয়ে তাদের কাছে পানি চাইছে তৃষ্ণা মেটাতে.. এই নরপশুরা পানির পরিবর্তে এসিড ঢেলে দেয় তৃষ্ণার্ত মেয়েটির গলে পচে যাওয়া শরীরের উপর।।।।
আমাদের সমাজে প্রতিনিয়ত অগুনিত রাহেলার জন্ম হচ্ছে... প্রতদিন কোথাও না কোথাও কোন রাহেলা হচ্ছেন ধর্ষিতা, নিপীড়িতা। কোন বিচার নেই, নেই অপরাধীর সাজা। আর এই অভয়ের কারনেই এই ঘৃণ্য নরপশুরা হয়ে উঠে আরো বেপরোয়া। লক্ষ্যনীয় সেক্স অফেন্ডাররা কখনও একটি অপরাধ করে থেমে থাকেনা। সাজা পেলেও, পরবর্তীতে সুযোগ পেলেই হামলে পরে নতুন শিকারের উপর। আর, যদি বিনা সাজায় পার পেয়ে যায়, তাহলেতো কথাই নেই, তারা হয়ে উঠে নির্ভীক আর শেয়ালের মতো চতুর! সুনিপুন ভাবে সংঘটিত করে পরবর্তী অপরাধগুলো। অসহায় নারী শিশুরা মুখ বুজে সহ্য করে তাদের নির্যাতন, কখনও নিরুপায় হয়ে বেছে নেয় আত্মহননের পথ...
প্রধান আসামী লিটন পলাতক। আইনের একটি বড় ফোকর গলিয়ে লিটনের সহযোগী ধর্ষক আর হত্যাকারীরা আজ জামিনে মুক্ত!!!। ডেথ বেড স্টেটমেন্টে রাহেলা সহযোগীদের নাম বলতে পারেনি.... গ্যাংরেপের শিকার একটি মেয়ে, হত্যার উদ্দেশ্যে যার গলা কেটে দেয়া হয়েছে, ছিন্ন ভিন্ন করা হয়েছে কশেরুকা.. শুধু তাই নয় এসিডে দগ্ধ গলে পচে যাওয়া শরীর নিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় পরেছিলো কিছুদিন... স্টেটমেন্ট দিতে কতোটুকুই বা এক বারে বলতে পারে!!!!! তিনি ধীরে ধীরে তাঁর মা'র কাছে সবার নাম জানিয়েছিলেন... আর সব চেয়ে বড় কথা.. রাহেলা শরীরে বহন করেছিলেন এসব নরপশুদের আস্তিত্বের চিহ্ন!
আরেকটি সুত্র থেকে জানা যায়, "লিটনের সাথে রাহেলার শশুরের পারিবারিক পূর্ব শত্রুতা ছিলো! ঘটনার বেশ কিছুদিন আগে লিটন রাহেলাদের বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়েছে.." তবে এই তথ্যের ভিত্তি বা বিশ্বাসযোগ্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত নই!
"রাহেলা হত্যা মামলা" এখনও আদালতে চলছে, কিছুদিন পর এর শুনানি। সাংবাদিকদের কাছে বিনীত অনুরোধ.. আপনাদের কলমের খোঁচায় আবার তুলে ধরুন এই হতভাগিনীর কথা.. এই নরপশুদের কুকর্মের কথা স্মরণ করিয়ে দিন আমদের বিস্মৃত জাতিকে...আপনার কিছু সময় হয়তো সাহায্য করবে এই ঘৃণ্য নরপশুদের সাজা দিতে।
আগামী ২৯শে অক্টোবর, ২০০৭ কেসটি কোর্টে উঠবে সাক্ষ্য গ্রহনের জন্য। ঢাকায় অবস্থিত 'আইন ও সালিশ কেন্দ্র' মামলাটি পরিচালনা করছে। প্রধান আসামী লিটন এখনও ধরা পড়েনি। লিটনের ৪ সহযোগী হাইকোর্ট থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছে...
সংবাদ পত্রে আবারো রাহেলার কথা তুলে ধরা হলে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হয়তো কিছুটা টনক নড়বে.. এতো সহজে লিটনের সঙ্গীরা, যারাও এই ধর্ষন আর হত্যার সাথে সমান ভাবে জড়িত তারা যেন ছাড়া না পায়...
অসহায়, দরিদ্র ঘরের কন্যা.. তাঁর পরিবারের অঢেল টাকা, পরিচিত, ক্ষমতা কিছুই নেই.. কালের স্রোতে হারিয়ে যায় এসব নির্যাতিতা হতভাগিনীদের কথা... পুরনো পত্রিকার পাতার খবর হয়েই থেকে যায়..এদের প্রতি করা অন্যায়ের প্রতিবাদ করার তেমন কেউ নেই, এদের হয়ে লড়াই করার কেউ থাকেনা.. মূল্যহীন এদের জীবন, তার চেয়েও মূল্যহীন এঁদের মৃত্যু.. অথচ, আপনার আমার মতোই এরা বাংলাদেশী, আমাদের কারো চেয়ে এদের নাগরিক অধিকার এতোটুকু কম হবার কথা ছিলোনা...
রাহেলার সাথে করা পাশবিক আচরন সাংবাদিকরা তুলে ধরেছিলেন সমগ্র দেশের মানুষের কাছে.... আজ তাঁর উপর করা নির্মম নির্যাতনের ন্যায়বিচারের জন্য সাহায্য করুন প্লিজ!
আগামীকাল রাহেলার অবস্থানে যে কেউ হতে পারে.. আমি, আপনি, আপনাদের স্ত্রী, কন্যা, বোন, পরিচিতা...
সাংবাদিকদের প্রতি একান্ত অনুরোধ.. আপনারা আরেকবার এগিয়ে আসুন এই দুর্ভাগা, নির্যাতিতা, দরিদ্র মেয়েটির প্রতি করা অন্যায়ের ন্যায্য বিচারের সাহায্যে...
২০০৪ সালে প্রকাশিত ডেইলী ডেইলী স্টারের প্রতিবেদন
রাহেলা হত্যা মামলার বর্তমান অবস্থা জানতে 'ফয়সল নোই' এর অসাধারন প্রচেষ্টা
নেক্সট ইউক এ ঈদ। রাস্তাগুলো ঘড় মুখো মানুষের ভীড়। ছুটছে সব্বাই শেষ মুহুর্তের কেনাকাটায়। কেউ ছুটছে গ্রামের বাড়িতে পরিবার পরিজনের সাথে ঈদ করবে বলে। এখনো ঈদ শপিংএ যাইনি। যাব কি যাবনা ভাবছি। ইনডিসিশন নাকি মধ্যবিত্তের টানপোড়ন? আমার হয়তো কিছুই লাগবে না। ইতিমধ্যেই অনেক কিছু পাওয়া হয়ে গেছে। এখন শপিং এ যাওয়া অন্যদের জন্য। দায় শোধ। মধ্যবিত্তের সেন্টিমেন্ট। কাজিনগুলোর অপেক্ষা... ভাইয়া কি দিবে এবার? বড় মামা সবচাইতে দামি ড্রেসটা এখনো দিচ্ছেনা ক্যান?
আচ্ছা জরুরী অবস্থার মধ্যে ঈদটা এক বছর আটকে রাখা যায় না? মই নিউ তত্ত্বে এ বিষয়ে কি বলে? অথবা মই নুল এর কোন জামাতী বিবৃতি? দুই মই এর চিপায় পইরা আম জনতার পকেটের অবস্থা পাংখা। কিন্তু বাঙালীর বগল বাজানো বন্ধ হইতাছে না। দ্যাশের বড় একটা অংশ এখনো মনে করে জলপাই ভালো। যত্তোসব।
বাচ্চা গুলো ডিশ এর মধ্যে পানি নিয়ে খেলা করছে। পানি শেষ হয়ে গেলে আবার ভরে আনছে আবার খেলতেছে। হঠাৎ এর মধ্যে একটা বিষাক্ত শাপ চলে আসলেও সুবোধ বাচ্চাগুলোর কেউ বুঝতেছে না শাপটা আসলে কি করতে পারে।
এই বাচ্চাগুলো কবে বড় হবে? কেউ কি বলতে পারেন?
চাঁদটার কি অনেক কষ্ট? ক্যামন যেন একা একা সমস্ত রাত্রিই ঘুরে বেড়ায়। এটা কি কস্টের? লিজার শেষ কথাটা মাথার মধ্যে সেই তখন থেকে ঘুরপাক খাচ্ছে। মুঠোফোনে মধ্যরাতের কথোপকথোনের এক পর্যায়ে ও বলেছিলো “তুমি কি জানো যে তুমি কতটা একা?” আমি আশ্চর্য হয়ে গিয়েছিলাম। সেই থেকে মাথার মধ্যে ঘুরতেই আছে। সত্যিইতো।
দিবসের ব্যাস্ততা শেষে ক্লান্ত অবসন্ন হয়ে যখন বাসায় ঢুকি... সত্যি একধরনের একাকিত্বে পেয়ে বসে। বের হতে পারিনা কোনভাবেই। সময় পার হয়ে যায় দেখতে দেখতে। আমি শুধু আমার জায়গায় স্থির। ইদানিং আরো উপসর্গ লক্ষনীয়ভাবে যোগ দিয়েছে - কনফিউশন। পেয়ে বসছে আমাকে। কোন ভাবেই কোন সিদ্ধান্তে পৌছতে পারিনা সহজেই। কি করাইবা উচিত? সিদ্ধান্তহীনতায় কুড়ে কুড়ে ক্ষয়ে যাচ্ছে জীবন... সমাধান? অসম্ভব
জীবনতো কেটে যাচ্ছে। সময়ও বসে নেই। স্ট্যাগ হয়ে থাকা সময়গুলো কি আসলেই বসে নেই? আচ্ছা, আমরা সব্বাই কি একা নই? চারিপাশের এত্ত এত্ত মানুষ তাও আমরা কত্ত একা। ভাবনার জাল ছিন্ন হয় মুয়াজ্জিনের আহ্বানে “আচ্ছালাতু খাইরুম্মিনানাউম”। দীর্ঘ রজনীর অবসান। ব্যাস্ততামুখর আরো একটি দিনের হাতছানি। কর্ম চাঞ্চল্যের সুধায় বুদ হয়ে থাকা।
জোনাক জ্বেলে লক্ষ কোটি
রাতের কাছে চাদের চিঠি
নীল জোছনায় তুমি কোথায়
মন চায় মন শুধু যে তোমায়
দিন যায় দিন তোমারি আশায়
নীল জোছনায় তুমি কোথায়?
রাত নির্ঘূম লাগেনা ভালো
মন দুয়ারে জানালা খোল
নীল জোছনায় তুমি কোথায়

দ্যাশ ভালো নাই... চারিদিকে ডুবন্ত বাড়ি ঘড়। যেই পানির নাম জীবন, সেই পানি আজ আমাদের দাড় করিয়েছে ধ্বংশের দ্বারপ্রান্তে।
কিছু লিখতে ইচ্ছা করতেছেনা। প্রচণ্ড একটা কষ্টে কুকড়ে আছি। আক্রোশে ফেটে যেতে ইচ্ছে করতেছে। ক্যান আমার অনেক অনেক ক্ষমতা নেই? মানুষের ক্যান এত্ত কষ্ট? ক্যান আমি এক লহমায় সব কষ্ট মুছে দিতে পারি না? শুধু টেলিভিশন আর খবরের কাগজ পড়ে কিছু বোঝা যাবে না। কিছু না.. কিছু না..
রমিজের ৩০ বছরের সংসার। তিল তিল করে গড়ে তোলা সংসার। এক রাত্রের পানিতে সব শেষ। এক মুহুর্তে কি ভাবে মানুষ ভিখারি হয়ে যায়.. .. এ লেখা পড়ে কেউ বুঝতে পারবে না তার কষ্টটা.. ..
আমি কতটা ক্ষুদ্র.. কতটা অসহায়.. কতটা অক্ষম.. এটা ভেবে প্রচণ্ড কষ্টে বাঁচি.. বাঁচতে হয়.. বন্যা নিয়ে একটা লেখা পরতেছিলাম কয়েকদিন আগে.. যেখানে বর্ণিত ছিলো একটি কিশোর এর কথা.. "আমি ভিখারী নই, আমাকে একটু সাহায্য করুন, বাবার শরীরে প্যারালাইছিছ!” ছেলেটা বোকা.. ও জানে না, আমরা সাহায্য করবো না.. আমাদের সব্বার বিবেক যে আজ প্যারালাইছিছ..
চির সুখি জন
ভ্রমে কি কখন
ব্যাথিত বেদন বুঝিতে পারে?
আজ বার বার মনে হচ্ছে.. .. আমাদের সব্বার বিবেক আজ প্যারালাইছিছ
বস্তাবন্দি
Categories
- আমার দিনকাল (2)
- বর্ষা (2)
- বসন্ত (1)
- বৃষ্টি (2)
- ভালবাসা দিবস (1)
- মজারু (2)
- মানবতা (1)
- শরৎ কাল (1)
- সংগ্রহশালা (2)
- স্মৃতিচারণ (2)




