কোন এক শহরের ঘটনা 


স্বজন এবং সময় দুই ভাইএকজনের বয়স ৮ এবং অন্যজনের বয়স ১০প্রচন্ড দুষ্ট প্রকৃতিরস্বজন এবং সময়ের যন্ত্রণায় শহরবাসি ত্যাক্ত বিরক্ত এবং তাদের পিতামাতাও এটা নিয়ে খুবি বিমর্ষশহরের যে কোন অনিষ্ঠের জন্য তাদের দায়ী করা হয় এবং তারা ইনভলবওস্বজন এবং সময়ের মা একদিন শুনতে পেল যে, শহরে আরহাম নামের এক ভদ্রলোক আছে এবং তার সন্তানেরা খুবি ডিসিপ্লিনডস্বভাবতই তিনি আরহাম সাহেবের সহযোগীতা কামনা করলেনআরহাম সাহেব রাজিও হলো বাচ্চাদের সাথে কথা বলতে... তবে প্রত্যেকের সাথে আলাদা আলাদা ভাবে 

তো, মা তার ছোট ছেলে স্বজনকে সকালে আরহাম সাহেবের কাছে পাঠালেন এবং বিকেলে বড় ছেলে সময়কে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিলেন 

আরহাম সাহেবের বাসায় স্বজনের প্রবেশের সাথে সাথেই আরহাম সাহেব ভিষন রূঢ় কন্ঠে জানতে চাইলেন, স্বজন, তুমি কি জানো ঈশ্বর কোথায়?

স্বজনের মুখ কিঞ্চিত খুললো বটে কিন্তু কোন কথা বের হলো নাবরং চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে থাকল

উত্তর না পেয়ে আরহাম সাহেব আরো দ্বিগুন ভয়ংকর কন্ঠে জিজ্ঞেস করলো বলো... ঈশ্বর কোথায়?
এবারো স্বজনের মুখে কোন কথা জুটলো না :(

আরহাম সাহেব এবার ছেলেটার মুখের কাছে আঙ্গুল নাচিয়ে আরো ভয়ংকর ভাবে একি প্রশ্নের পুনরাবৃত্তি করলেন 

একটু সুযোগ পেয়ে স্বজন আরহাম সাহেবের বাসা থেকে ভোওও দৌড়ে সোজা বাড়িতে এসে তাদের গোপন কক্ষে ঢুকে, স্বশব্দে দড়জা বন্ধ করলোবড় ভাই সময় তাকে এই কক্ষে প্রবেশ করতে দেখে সেও হাজির এবং যথারীতি সময় জানতে চাইলো কি হয়েছে? 
স্বজন কি যেন খুজতে খুজতে বললো ভাইয়া এখন আমাদের সামনে ভয়ংকর সমস্যা

সময়: কি সমস্যা?
...
...
...
...
...
...
...
...
...
...
...
..
.
স্বজন: ঈশ্বর হারিয়ে গেছে এবং সকলেই ভাবতেছে যে, এই কাজ আমাদের :(







বৃহষ্পতিবারটা অসম্ভব ব্যস্ততায় কাটলো। অফিস শেষ করে গার্লফ্রেন্ডের জন্মদিন নিয়ে দৌড় ঝাপ বুঝতেই পারেন। তিনটা সার্কেলে বন্ধুদের সাথে এটেন্ড করে আবার ১০টায় বাসায় ফেরা... দ্যান এয়ারপোর্ট দৌড়... ১১:৪৫ ট্রেইন। স্টেশনে পৌছে দেখি পুরা মাছের বাজার। বৃহস্পতিবার হওয়ায় সকলেই ছুটছে বাড়ির দিকে। যথাসময়ে ট্রেন আসলো এবং শুরু হলো আমাদের শ্বাশ্বতর কাছাকাছি যাওয়ার সম্ভাবনার।

কুউউঝিক ঝিক - আহা কতদিন রেল গাড়িতে উঠা হয় না ... ভুলেই গেছি। রেল গাড়ি ঝমাঝম, পা পিছলে আলুর দম... ক্যামন জানি একটা নস্টালজিয়া। জার্নিটা ভালই লাগছিল। কেউ কাউকে ঘুমাতে দিচ্ছি না। তার মধ্যে নেমেসিস আর আমি পাশাপাশি বসার কারনে বেটায় আমারে ঘুমাইতে দিতাছিল না :(। ওইদিকে কালপুরুষদা আর রঞ্জু ভাই ঠিকি ঘুম দিছে :(। দিপু, মেসবাহ ভাই আর উজ্জল একত্রে বসার কারণে উজ্জল চিকনে ঠিকই একটা ঘুম দিয়া লইছে। চারজনের খুনোসুটি। বিড়ি ফুকাফুকি। কে কারটা আগে শেষ করবে সেই ধান্দা ;-) । ক্ষনে ক্ষনে চা না পাওয়ার খেদ। চমত্কার একটা ট্রেন জার্নি শেষে রাজশাহী পৌছা। স্টেশনে নেমেই দ্রুত ছোটা রেস্টুরেন্টে। দোকানে ঢুকেই আনলিমিটেড লুচি আর তরকারীর গলধকরন। ইতিমধ্যে আমি জামাই খেতাব পেয়ে গেলাম ;) (বিবাহ যোগ্য পাত্র হিসেবে)।যার কারণে একটু বিশেষ খাতির পাচ্ছিলাম। কিন্তু রাজশাহীতে কোন সুন্দরীর দর্শন না পাওয়া আমায় মর্মাহত করলো ;-) ...

কালপুরুষদার বাসায় পৌছে শাওয়ার নিয়ে রাতের ক্লান্তিকে ঝেড়ে... ফুরফুরা হয়ে ছুটলাম শ্বাশ্বতের কাছে। মাইক্রোবাস নিয়ে আরো একটা চমত্কার একটা ভ্রমনের মুডে ছুটে চলা শ্বাশ্বতের নিকট থেকে নিকটবর্তী হওয়ার আপ্রান চেষ্টায়। নিজস্ব পরিবহনের কিছুটা সুবিধা... মাঝে থেমে থেমে গরুর খাটি দুধের চা পান.. চানাচুর ভর্তা... ;)। গায়ের চায়ে ধোয়ার একটা গন্ধ পাওয়া যায়। অদ্ভুত .. গুড় দিয়ে চা বানানোর সেই স্বাদ... না খেলে বোঝানোই যাবে না। গ্রামের ঝুপড়ি চা এর দোকানে চা খাওয়ার অনুভুতিতে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।

ছোট্ট একটা মফস্বল শহর নাটোরের গোপালপুর। নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের অধীনের স্কুলে শাশ্বত সত্যর বাবা অরুণ সত্য শিক্ষকতা করেন। সেই সুবাদে এলাকার ছোট ছেলেমেয়েরা তাকে ভালোই চিনে। বাড়ির কাছে এমন একটা ছেলে আমাদের পথ দেখিয়ে নিয়ে গেল শাশ্বতর কাছে।

শ্বাশ্বতর বড়ি পৌছাতেই শ্বাশ্বতের বাবার সাথে দেখা। আমাদের জন্য অপেক্ষায় তার পায়চারি। ছোট সময় যখন একজন আদর্শ শিক্ষক এর ছবি কল্পনা করতাম ঠিক তেমন। চমত্কার বাচনভঙ্গি এবং স্নেহসুলভ আচরনে মুগ্ধ। মিনিটের মধ্যেই আপন করে নেয়া এই পরিবারের প্রত্যেকটা মানুষ। আমার ভাল লেগেছে


হিসাব বুঝিয়ে দিচ্ছেন মেসবাহ য়াজাদ এবং নেমেসিস

আরে এই ছেলেটাকেতো আমি চিনি। ঘড়ে ঢুকে শ্বাশ্বত দেখেই এরম মনে হচ্ছিল। কতদিনের চেনা জানা (জানা আপা না কিন্তু)। বসলাম ওর পাশেই। কথা হলো। ওর মনে অসুস্থ্যতার কোন স্পর্শই ছুতে পারেনি। বেচে থাকার কি শক্ত মনোবল। আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকি। ও বাচবে। অবশ্যই বেচে উঠবে। এমন প্রাণশক্তি যেই ছেলের ... তাকে কেউ পরাজিত করতে পারে না। ও সুস্থ্য হয়ে ফিরে আসবে আমাদের কাছে। ছেলেটার খুউব ইচ্ছা আমাদের সকলের সাথে আড্ডা দেয়ার... ব্লগিং করার... আরো কত কি.. । শ্বাশ্বতর দিকে তাকিয়ে ওর মায়ের চোখের পানি আমাকে পোড়ায়। আমার মায়ের কথা মনে হয়। কান্না লুকাই সকলের অগোচরে... ইশশ আমি যদি শ্বাশ্বতর জায়গায় থাকতাম তাহলে আমার মাটার কি হতো? ভাবতে পারিনা...


আমরা সকলে, রঞ্জু ভাই, পেছনে মেযবাহ ভাই, শাশ্বত, আমি, দিপু, নেমেসিস... ক্যামেরায় কালপুরুষদা

শ্বাশ্বত, বাবা, মা এবং ছোট্ট একটা বোন নিয়ে ওদের ছোট্ট ছিমছাম একটা সংসার। একমাত্র উপার্যণক্ষম ব্যাক্তি শ্বাশ্বতর বাবা। বয়সের ভারে অবসরের পর যেই সন্তানের উপর নির্ভর করার কথা সেই সন্তানেরি আজ বেচে থাকার প্রচণ্ড অনিশ্চয়তা। সকল খোজ খবর নেয়ার চেষ্টা। কতটুকু আগানো হয়েছে চিকিত্সার ... কি করা যেত... কি করা হয়েছে। বিস্তারিত। আসলে ২০০৬ ভেলরে যখন প্রথম নিয়ে যাওয়া হয় তখন শ্বাশ্বতের জন্য যে টাকার অংকের প্রয়োজন ছিল এখন ২০০৮ সালে এসে তার দ্বিগূন খরচ প্রয়োজন হবে। এবং যত দ্রুত চিকিত্সা শুরু করা না যাবে ততই এই খরচ বাড়তেই থাকবে। মেসবাহ য়াজাদ ল্যাব এইড সহ ঢাকার কিছু স্পেশালিষ্ট ডাক্তার এর সাথে কথা বলবে। যদি চিকিত্সা ঢাকায় করা সম্ভব হয় তাহলে হয়তো খরচের পরিমান অনেকটা কমানো যাবে।

mesbah_aajadblog_1215839996_3-pic_03


ব্লগার এবং নন ব্লগার বন্ধুদের সহায়তার প্রাথমিক তহবিল শ্বাশ্বতর বাবার হাতে তুলে দেয়ার ইচ্ছা পোষন করতেই শ্বাশ্বতকে সহায়তায় হাত বাড়ানো মানুষগুলোর জন্য শ্বাশ্বত, বাবা, মা... সকলেই ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করলেন কিছুটাক্ষন। সুনশান নিরবতা... পবিত্র একটা পরিবেশ। হে ঈশ্বর... আমার ছেলের জন্য সহায়তার হাত বাড়ানো মানুষ গুলোকে.. .. ... .. L

mesbah_aajadblog_1215840233_9-pic_09


বিদায় নিয়ে চলে আসার সময় শ্বাশ্বতের চোখের দিকে তাকাতে পারিনি। কোথায় ৩০+ লাখ টাকা প্রয়োজন আর সেখানে আমরা মাত্র প্রায় লাখ যোগার করতে পারলাম। ঈশ্বর তোমার সহযোগীতা একান্ত কাম্য। নইলে ছেলেটা বাচবে না :(

আসলে এই ছেলেটাকে বাচানোর জন্য তেমন কিছুই আসলে করতে পারলামনা। এ দায় আমার। এই ব্যর্থতা আমার। আমি হয়তো মানুষের কাছে পৌছাতে পরিনি শ্বাশ্বতকে বাচানোর আকুল আহ্বান। আমি সত্যি দু:খিত... লজ্জিত ... ক্ষমা চাই শ্বাশ্বতের কাছে... আপনাদের কাছেও...

http://www.youtube.com/v/-sKnY4IUxxc

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে নির্মিত মিউজিক ভিডিও। যেটা আজ থেকে হতে চ্যানেল আই এ সম্প্রচার হবে।

ছবি: কালপুরুষদা এবং মেসবাহ য়াযাদ


রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে নির্মিত মিউজিক ভিডিও। যেটা আজ/কাল হতে চ্যানেল আই এ সম্প্রচার হবে।


পয়লা আষাঢ়... বর্ষার শুরু.. ঝম ঝম বৃষ্টি... পানিতে শায়লাব প্রিয় ঢাকা। এরম দৃশ্য দুপুর/বিকেলে ভাল লাগে ... কিন্তু সকালেতো অবশ্যই না... অফিসে আসার প্রাক্কালে এরম কিছু বরং মেজাজ বিগ্‌ড়ায় :(... বৃষ্টিপ্রেমিরা আমার উপর খেপতে পারেন কিছুটা...




কদম ফুল বিক্রি আর কেনার হিড়িক দেখা গেল আজ। ধীরে ধীরে বাঙালির বাঙলা ইভেন্টগুলোতে অংশগ্রহণ ক্রমেই বাড়তেছে। পুরোটাই এমএনসি’র বদৌলতে... বাজারজাতকরণ এর নয়া জিকির বাঙালির সাংস্কৃতির আবাহনের সুযোগে নেয়া। পাবলিকের পকেট ফুটা করার নয়া নয়া তরিকা লইয়া সামনে আইসা খাড়ায়... তারপরেও... সকল দুঃখ বেদনার বাইরেও যতটুকু আনন্দ উদ্‌যাপন... ততটাই মনের বিনোদিত হওয়া।

ঝা ঝা রৌদ্দুরের দুপুর বেলায় বের হয়ে ঝকঝকে আকাশ আমায় মুগ্ধ করল... আহা কি নীলের মেলা আজ... কাউকে অবশ্যই আজ মিস করছি... মাঝে মাঝে কঠিন কর্পোরেট কালচার ভাইঙা আউলা হইয়া কাউরে লইয়া রাস্তায় ঘুর'তে ভালই লাগে। জলবায়ু পরিবর্তনহেতু বর্ষার শুরুটা অনেক আগে থেকেই দেখা যাচ্ছিল... রাস্তার দুপাশের মৃতপ্রায় গাছ গুলোর সবুজ হয়ে ওঠা... ধুলোবালির প্রলেপ পড়া ঢাকার শহরকে প্রকৃতি তার নিজস্ব তরিকায় ঝকঝকে তকতকে করে দিয়ে গেল...

নীল নবঘন আষাঢ় গগনে
তিল ঠাই আর নাহিরে
ওগো আজ তোরা
যাসনে ঘরের বাহিরে।


ফটুকের জন্য কৃতজ্ঞতা ::
~Mouly~

::: আজকের আবহাওয়া সংবাদ :::
আজ ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ী দমকা ও ঝড়ো হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছেকোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারেদিনের তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকতে পারেসোমবার ঢাকার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩০ এবং সর্বনিম্ন ২৬ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসদেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল রাজশাহীতে ৩৩ দশমিক ৫ এবং সর্বনিম্ন টেকনাফে ২৩ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসসকাল ৯টায় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৬ এবং সন্ধ্যা ৬টায় ৮৮ শতাংশ

সারাদেশে সর্বোচ্চ : ৩৩.৫, রাজশাহী
সারাদেশে সর্বনিম্ন : ২৩.৬, টেকনাফ
আগামীকাল সূর্যোদয় : ৫টা ১৫
আজ সূর্যাস্ত : ৬টা ৫০

:D:)B-);):P

সামহোয়ারইনব্লগের নিউজ
বাইরে দুনিয়ার বৃষ্টি পর্তাছে... সো... দিশি ব্লগারগো উপস্থিতি কম হৈবে... বেবাক্তে খিচুরী লৈয়া পর্বো... বৃস্টির পোস্ট বেশী হৈব... আজকের ব্লগারদের সর্বোচ্চ উপস্থিতি ৭৫ এবং সর্বনিম্ন উপস্থিতি ৩০

বিশেষ সাবধানতা:
#
বাসায়, অফিসে, আড্ডার স্থলে, অফিস ব্যাগে, স্কুল ব্যাগে, বিভিন্ন জায়গায় ছাতা রাখুন... যাতে প্রয়োজনের সময় পাওয়া যায়
#
বৃষ্টির দিনে ভারি পোশাক নয়... হালকা পোশাক পরিধান করুন... বাইরে বের হওয়ার সময় পোশাক এভয়েড করুন
#
ভেজা শরীরে বাসায় আসার সঙ্গে সঙ্গে দিগম্বর হয়ে শরীর শুকিয়ে নিন
#
বৃষ্টিতে সেলফোন ভিজে যেতে পারে তাই ভাব মারার জন্য ডামি সেল ব্যবহার করুন আর আসলটা বাসায় রেখে আসুন
#
বৃষ্টির দিনে রাস্তায় পানি জমে গেলে ম্যানহোলোর অবস্থান নির্ণয়ে সমস্যা হতে পারেতাই হাটুর উপরে একটা বাঁশ আড়াআড়ি ভাবে বেধে চলাচল করুন... তাতে ম্যানহোলের পরে হারিয়ে যাওয়ার সম্ভাবিলিটি কম থাইকপে... ;)
#
ঘড়ের স্যাতস্যাতে ভাব দুর করার জন্য বউ এর হেয়ার ড্রাইয়ার টা সদব্যবহার করুন (লুকিয়ে)

আমাকে ভোলার অহংকারে তুমি কতোবার ওল্টাবে ঠোঁট ?
কতোবার বোঝাতে চাইবে-ভালো আছো খুব -
এক লহমায়
প্রীতির চিহ্ন সব মুছে দিয়ে?

কতোবার তুমি অঙ্গুলি নাড়িয়ে বোঝাবে- নেই ! একবিন্দুও কষ্ট নেই !
পেছনের ফেলে আসা পথ- কী প্রবল সহজে পেরেছো-
দুপায়ে মাড়াতে !

আমি জানি, জীবন বাজীতে রেখে
তুমি হেসেছো মহাসুখে

স্মৃতির শিকড় উপড়ে বোঝাতে চেয়েছো
কী ভীষণ ক্ষুদ্র আসলে তোমার ওপর আমার প্রভাব,
পৃথিবীর কিছুই পারেনা আর একবার
একটি বারের জন্যেও -ফেরাতে তোমাকে !

অহংকারে অহংকারে তুমি এইভাবে পৃথিবী মাতাও- আমি জানি
তবুও বৃষ্টির কাছেই শেষতক প্রবল নতজানু তুমি-

কেবল বৃষ্টির কাছেই ফিরে আসে তোমার ভেতরের সেই তুমি-
কেবল বৃষ্টিই তোমাকে ফেরায় পুনরায়
পুনর্জন্মের মতো স্বচ্ছ সুন্দর সেই চিরচেনা বিশুদ্ধ অনুভবে....

আমি জানি, যখন বৃষ্টি নামে বিরতিহীণ,
একটানা ঝরো হাওয়ায়, অস্থির অনাচারী তান্ডবে-

যখন বৃষ্টি নামে রমনায়, রেস্তোরায়, সবুজ ঘাসের বুকে
প্রেমিকের উষ্ণতাহীণ-অনার্দ্র বুক জুড়ে-

তখন তোমার জানালার কাঁচে
এক একটি কষ্টের কণার মতো সারারাত- বেদনায় জমতে থাকে
বৃষ্টির অযুত অসংখ্য কষ্ট মেশানো সব কণা....

তখন নিমিষেই- ভীষণ বৈরী সব নিয়ম নিষেধ দুমড়ে-মুচড়ে
তোমার সাজানো অহংকার ভেঙ্গে পড়ে,

ছিটকে পড়া নুড়ি পাথরের মতো....
মুহুর্তে এক আশ্চর্য্য ক্ষিপ্রতায়-হিম শীতল এক
বৃষ্টি ঢুকে পড়ে -তোমার অস্তিত্বে, অনুভবে, সত্বায়-
অনুতাপে !

আর তখন-
একটি হারিয়ে ফেলা প্রিয় ডায়রীর সবকটি পাতা
একটু একটু করে উল্টে দেখার মতো করে- হু হু বেদনায়-
তোমার আবার একটু একটু করে
মনে পড়ে যেতে থাকে....
আমাকে!