দিনগুলি বড্ড বেশী ছকেবাধা। ৯টা ৫টা জীবন। আর ভাল্লাগেনা। ইদানিং চাওয়া পাওয়ার হিসাব বড্ড বেশী গোলমেলে মনে হয়। ভালো না লাগার এটাও বোধহয় একটা কারণ। সিগারেটে সুখ টানটা দিয়ে ফেলতে ফেলতে ঠিক করে ফেল্লাম। জাম্পেশ আড্ডা হবে। ওয়েদারটাও জশিলা। রুহানামার প্রস্তাবনায় ওর বাসায় বসার স্থান নির্ধারীত হলো। দুপুরে খাওয়ার পাট চুকিয়েই বেরোব বলে ভাবছি। পথেই জনি কে তুলে নিবো। রিং দিলাম। উফফ্... এই বয়সের পোলাপাইন কত্ত ভ্যারাইটিজ ওয়েলকাম টিউন ইউজ করে... আর কি বোরিং একঘেয়ে টিইইইইট টিইইইইট। যত্তোসব। আরে বাপ ফোনটা ধর। ঘুমাচ্ছে নাকি? শালা... সবি ফোন কোম্পানীর নাইটবার্ড এর সাইডএফেক্ট।
ছুটলাম ১৪ নম্বর রোডে রুহাইনামার বাসায়। রুহান আর আমি।
রুহান এর সাথে রুহাইনামার এ্যাফেয়ার বড়জোর বছরখানেক হবে হয়তো। এক বছর অনেক লম্বা সময়। পুরো ৩৬৫টা দিন। অনেক কাঠখড় পেরিয়ে আজ ওরা একসাথে। ভালো লাগছে দুটো সুখি মুখ দেখতে। হালকা নাস্তার পর শুরু হলো লুডু খেলার প্রতিযোগীতা। আমি আর রুহায়নামা। অপরদিকে রুহান আর মনীষা। র্ফাস্ট ডিল তিন... রুহান পাঁচ... রুহায়নামা ছক্কা ... ওয়াও... প্রচন্ড চিৎকারে ঘর ফাটানোর উপক্রম। উহ শিট্। পর পর তিনবার ছক্কা। বেচারীর জন্য মায়া হলো। হা.. হা.. হা.. চেহারাটা যা হয়েছে। টিপ্পনি কাটা যাচ্ছেনা আমার পার্টনার বলে। জমজমাট ভাব চলে আসলো কিছুক্ষনের মধ্যেই। রুহানটাকে নিয়ে আর পারা গেল না। এত্ত চুরি করে... বয়স হইছে এইবার একটু ভদ্র হ.. না তার আর জো নেই। আর রুহায়নামা? সে আবার উল্টা। কোনভাবেই সে রুহান এর কোন গুটি আউট করবে না। পাছে রুহান মনে কষ্ট পায়। কত্ত পিরিত... যথারীতি কিছুক্ষনের মধ্যে আমরা চিৎপটাং। রুহায়নামার চোখ চিক চিক করতেছে খুশিতে। মনে হলো সেই জয়ী হইছে... রুহান নয়।
খেলা শেষ। ছাদে উঠলাম। কি হয়েছে আজ আকাশটার? হঠাৎ হঠাৎ পৃথিবীকে অন্ধকার করে কাঁদছে ক্যান? আচ্ছা আকাশটা এত কান্না কোথায় লুকিয়ে রাখে? একটু পর পর এভাবে ডুকরে কেদে ওঠা। নিজের মধ্যেই ভাংচুর। প্রচণ্ড একটা কালবৈশেখী ঝড়ের বড্ড বেশী প্রয়োজন আজ। ভেঙ্গেচুরে তছনছ করে দিয়ে যাক সব কিছু।
ইটের পরতে পরতে বুনব নতুন আকাশ। নীল আকাশ। যেখানে উড়বে সাদা মেঘের ভেলা। বিনির্মীত হবে সোনালী স্বপ্ন। ফেলে আসা সকল কান্নাকে ঝেড়ে ফেলে সুখ সুধা অবগাহনে এমন একটা স্বপ্নীল আকাশ আজ বড্ড বেশী প্রয়োজন।
পরিবার..ক্যারম আছো? শইলডা বালা? আহারে... খাটতে খাটতে আমার বউডার গতরডা এক্কেবারে (ওয়ার্ড খুইজ্যা পাইতাছিনা) ... এত্তো ব্যস্ত থাকো যে সোয়ামীর একদণ্ড খবরও লইতো পারো না... বিয়ার পর ও কি এরম হইবোনি? তাইলে তো দিলে বহুত চোট পামু... তাইলে বাচুমনারে জা-আ-আ-আ-ন-ন-ন-ন...
বালো বাসো কিনা বাসো সখি টেরাই করো আমারে... আমি বালো বাসি তোমারে... কি বুজলা? তুমি আমার সোনার চান পিতলা ঘুঘু... আমার দিল খুস বেগম... তুমি আমার আন্দার রাইতের চান্দের আলো (নাকি এইখানে মোমবাত্তি হইবো??)... সখিগো তোমার বিহনে আমিতো এক্কেবারে ঝুইল্যা (হ্যাং) যামু... আমারে তুমি গাছে উডাইয়া মই-ডা সরাইয়া লইয়া যাইওনা কইলাম...
ও স্ত্রী (আয়রন).. হোনো... টাইম মতো খাইবা... জানি তোমার বিতরে অহন উথাল পাথাল... তাও.. নিজের দিকে ইট্টু খেয়াল রাখবা... আর হোন... বেগানা পুরুষ পোলা যানি তোমার দিকে না চায়... তাইলে আমি কলাম উই ফকিন্নির পুতের চক্কু তুইল্যা ফালামু... আমার পরিবারের দিকে চোক তুইল্যা চাইবো তো ... খবর কইরা ছাড়মু... যাউকগা... তুমি বালো থাইক্যো... ঠিক আছে? আর আমারে তোমার দিলের কতা খুইল্যা লেখবা... বুজছ? অহন তাইলে রাখি?
রিপোর্টটা এখনো শেষ হচ্ছে না। কখন যেন বস ডেকে বসে। একটু অস্বস্থিতে আছি। কিছু ব্রাঞ্চের রিপোর্ট সম্ভবত মিস হইসে। না হলে প্রায় ১০ কোটি টাকার সেভিংস কমলো কিভাবে? তিন হাজার এর উপরে ব্রাঞ্চ। কোনটা কোনটাতে যে প্রবলেম হলো খুজতো গিয়ে এই শিতাতপ নিয়ন্ত্রিত অফিসে বসেও ঘামছি। রুহায়নামা এসে উপস্থিত।
ভাইয়া একটু বসি?
কম্পিউটার স্ক্রিন থেকে চোখটা না তুলেই বলি ’উমম’
ঃ কি খবর রুহাইনামা?
ঃ ভাইয়া... নিজের উপর ঘেন্যা ধরে গেছে। আমি চমকাই। রিভলভিং চেয়ারটাকে ওর মুখোমুখি করি। জিজ্ঞেস করি...
ঃ কাল রাতে কি খুউব ঝগড়া হয়েছে? চেহারার এই অবস্থা করেছো কেন?
ঃ ভাইয়া ও আমাকে কনটিনিউ ট্রেস করতেছে।
ঃ কিভাবে?
ঃ আমি কখন কোন এলাকায় থাকি সব ও ওর বন্ধুর মারফত জেনে যাচ্ছে। ব্যাপারটা আমার কাছে বিশ্রী লাগতেছে। ও আমাকে সন্দেহ করতেছে। আমি তো পুরা হতভম্ভ।
ঃ কিভাবে ট্রেস করছে? কাউকে কি তোমার পেছনে লাগিয়েছে?
ঃ হ্যা ভাইয়া। আপনি তো জানেন-ই যে আমি বাংলা লিংক ইউজ করি।
ঃ তো?
ঃ ওর এক বন্ধু আছে বাংলা লিংক এ... আমি কখন কোন টাওয়ার এর কাছা কাছি আছি সব ওকে জানিয়ে দিচ্ছে।
আমি আসলে কি জিজ্ঞেস করবো বুঝতেছিনা
ভাইয়া .. ও আমকে জিজ্ঞেস করেছে আমি ন্যাম ফ্লাট এ ক্যান গিয়েছি? ভাইয়া সত্যি আমি ন্যাম ফ্লাট এ যাইনি। আমি রাজা বাজার এর এই মাথায় সিঙ্গার এর শোর রুম এ গিয়েছিলাম একটা এসি দেখার জন্য। এইযে দেখেন ব্রোসিওর। কিন্তু ও বিশ্বাস করতেছে না। ভাইয়া এটা আমার প্রচণ্ড ইগোতে লাগছে। ওর সাথে আমার পক্ষে আর কনটিনিউ করা পসিবল না। ভাইয়া আমার খুব কষ্ট হচ্ছে। উফফ্... আর পারা গেলনা এই দুইজনকে নিয়ে। দেখি দুইজনকে নিয়ে আবার বসতে হবে।
ব্যানসনটা এইবার ছাড়তেই হইবো। একটু কড়া কড়া লাগতাছে দিন কয়েক যাবৎ। বুকটায় মাঝে মাঝে চিন চিন কইরা ওঠে। এইটা আসলে কিসের আলামত বুঝতাছিনা। অনেক দিন হইয়া গেল এই ব্রাণ্ডটায়। বদলাইলে ক্যারম হয়? কিন্তু এরপর? ওই মানের তো আর কাউরে দেখতাছি না এই মুহুর্তে। ব্যানসন লাইট কয়দিন টাইনা দ্যাখা যাইতে পারে। এই দিকে অফিস কইয়া দিছে.. বিড়ি টানলে চাকরি থাকবোনা। কথাডা মনে হইলেই মেজাজ খিচরে যায়। যত্ত সব। রুটিরুজি দেইক্যা কিছু কইতেও পারিনা। অফিসের চৌহদ্দি ছাইড়া দুরে যাইয়া বিড়ি টাইন্যা আসি গজড় গজড় করতে করতে।
এইদিকে শালার বারটেন্ডার স্ক্র-ড্রাইভার থিকা দুরে আছে বহুত দিন হইয়া গেল। তার গার্ল ফ্রেন্ড এহন দ্যাশে। তারে দৌড় এর উপর রাখছে। দুষ্ট পোলাপাইন পাছে মুখ টিপে হাসে। ব্যাচারা। অফিস ... জিএফ ... বাসা ... কত্তকি... । মাঝে মাঝে খ্যাপতে খ্যাপতে আইয়া কইবো ‘বস... এইভাবে তো চলে না... আর কত? স্যাক্রিফাইস করতে করতে তো নিজেই স্যাক্রিফাইস হইয়া গ্যালাম’ আমি হাসি। পোলাপাইন। পিঠে হাতবুলাইয়া কজে মনোযোগী হইতে কই। আবার নতুন উদ্যোমে ডেটিং, নতুন উদ্যোমে ঝগড়া। হাহাহাহা
অফিসটার পেছনদিকটায় বিশাল একটা খেলার মাঠ। মহল্লার পোলাপাইন রেগুলার ক্রিকেট খ্যালে। জাতীয় দলে ডাক পাওনের আশার অবিরাম পরিশ্রম। মাঠটার ঠিক ওই পারেই ফাষ্টফুডের দোকানটা। এইটা আসলে একটা চা এর দোকান। আমি নাম দিছি আমাগো ফাষ্টফুড। এইখানে নিয়মিত চা খেতে আসি। ভিতরে বইসা একটা আয়েশ কইরা বিড়ি ধরাই। ইদানিং ফাউজিয়াও আমার সাথে যোগদিছে চা খাওয়ার লাইগ্যা। নিচ থেকে ১১:৩০তে ফোন করবো। ‘ভাইয়া নামেন। চা খাওয়ার সময় হইছে।’
আসলে যতনা আমারে চা খাওয়ানোর জন্য ডাকা তার চাইতে বেশি হইলো ওর বিএফরে একনজর দ্যাখা। বিএফ আবার সিসটেম ইঞ্জিনিয়ার। এই পোলাটা আমার খুউব ভক্ত। আমি চা খেতে নামলে ওরে লগে লইয়াই নামি। এই দুইটারো একি সমস্যা। সারাদিন ঝগড়া করবো। দুই পক্ষেরই বিস্তর নালিশ। ‘ও অমুক পোলার লগে কথা কইছে’ ‘এ অমুক মাইয়ারে এসএমএস করছে’। এক্কেবারে হুদা মিছা ঝগড়া।
ভালোই লাগে এই দুইজনের ঝগড়া দ্যাখতে। পিড়িত কিন্তু কম না। একজন আর একজনরে না দেইক্যা থাকতে পারে না। খুউব ভালো লাগে যখন দেখি ঝগড়া কইরা দুইজন দুইজনের চুল টানাটানি শুরু করছে। হাহাহাহা... দুইটাই পুরা পাগোল। হা... হা... হা... হা... হা... হা... হা... হা... হা... হা... হা... হা... হা... হাসতে হাসতে চোখে পানি চলে আসে। ভালোবাসাটা আসলেই একটা পাগলামি.. তাই না? একটু হাসি ... একটু কান্না... একটু অভিমান... একটু খুনোসুটি... একটু ঝগড়া... আবার গলাগলি... ব্যাস্ততার কারনে না দেখার সময়টাতে দুজন দুজনকে প্রচণ্ড ভাবে মিস করা। পরবর্তী সময়ে আবার নতুন করে নিজেদের আবিস্কার। হৃদয়ের অনুভুতি চোখে জলধারায় প্রকাশ।
বাঁচবো যতদিন ততদিন আমি
মনে রেখ ভালোবেসে যাবো তোমাকে
বিশ্বাস করি আহা ভালোবাসা দামি
সেই ভালোবাসা তুমি দাও আমাকে
এই বুকে রেখেছি আমি তোমাকে
রেখেছি চোখের তারায়
মনটা খারাপ হইয়া গেল...
কখনো আমার মা কে গান গাইতে শুনিনি
সেই কবে শিশু রাতে ঘুম পাড়ানির গান গেয়ে
আমাকে কখনো ঘুম পাড়াতেন কিনা আজ মনেই পরেনা......
শামসুর রহমানশামসুর রহমান এর কথাটা একদম সত্যি... আমিও আমার মা'কে কখনো গান গাইতে শুনিনি...
তার এই সময় কোথায়? সব সময় আমাদের নিয়েই ব্যাস্ত থাকতো... তবে আমার মা গান শুনতো... আমার দিনের শুরুটা হয় মা এর ডাকে... 'টুটুল, ওঠ... ৭টা বাজে, অফিসে যাবি না?... ' জীবনের পরতে পরতে জড়িয়ে আছে আমার মা... সন্তানকে আর কে এমন ভাবে ভালোবাসতে পারে? কেউ না... কেউ না... এত্ত নিঃস্বার্থ ভালোবাসা আর কেউ দিবে না...
পৃথিবীর সবচেয়ে মধুর ও সবচেয়ে বেশী উচ্চারিত শব্দটি হলো মা... আর এই মা কেই আমরা শুধু একটি দিবসে বন্দি করে ফেলছি... এটা ঠিক না - এটা ঠিক না।
পৃথিবী জুড়ে পালিত হচ্ছে মা দিবস... এর পিছনে যতটা না মা'র জন্য ভালোবাসার প্রকাশ থাকে.. তারা চাইতে বানিজ্যিক করাণটাই বেশী শক্তিশালী মনে হয়...
তবুও আমি এই গতানুগতিকতা ভেঙ্গে ফেলতে চাই না... যারা শুধু মাত্র এইদিন মা কে মনে করেন... তাদের জন্য আমার দুঃখ হয়... ঘরে এবং বাইরের পৃথিবীর সকল মা, মা'র সন্তানেরা সুখে থাকুক... শান্তিতে থাকুক... যেখানে আমার মায়ের সুখ নিহিত... মা তোমাকে আমি সবচাইতে বেশী ভালোবাসি... ভালো থাকো আমার মা জননী...
শামসুর রহমানশামসুর রহমান এর কথাটা একদম সত্যি... আমিও আমার মা'কে কখনো গান গাইতে শুনিনি...
তার এই সময় কোথায়? সব সময় আমাদের নিয়েই ব্যাস্ত থাকতো... তবে আমার মা গান শুনতো... আমার দিনের শুরুটা হয় মা এর ডাকে... 'টুটুল, ওঠ... ৭টা বাজে, অফিসে যাবি না?... ' জীবনের পরতে পরতে জড়িয়ে আছে আমার মা... সন্তানকে আর কে এমন ভাবে ভালোবাসতে পারে? কেউ না... কেউ না... এত্ত নিঃস্বার্থ ভালোবাসা আর কেউ দিবে না...
পৃথিবীর সবচেয়ে মধুর ও সবচেয়ে বেশী উচ্চারিত শব্দটি হলো মা... আর এই মা কেই আমরা শুধু একটি দিবসে বন্দি করে ফেলছি... এটা ঠিক না - এটা ঠিক না।
পৃথিবী জুড়ে পালিত হচ্ছে মা দিবস... এর পিছনে যতটা না মা'র জন্য ভালোবাসার প্রকাশ থাকে.. তারা চাইতে বানিজ্যিক করাণটাই বেশী শক্তিশালী মনে হয়...
তবুও আমি এই গতানুগতিকতা ভেঙ্গে ফেলতে চাই না... যারা শুধু মাত্র এইদিন মা কে মনে করেন... তাদের জন্য আমার দুঃখ হয়... ঘরে এবং বাইরের পৃথিবীর সকল মা, মা'র সন্তানেরা সুখে থাকুক... শান্তিতে থাকুক... যেখানে আমার মায়ের সুখ নিহিত... মা তোমাকে আমি সবচাইতে বেশী ভালোবাসি... ভালো থাকো আমার মা জননী...
আমার সারাটা দিন..
মেঘলা আকাশ
বৃষ্টি
তোমাকে দিলাম
শুধু শ্রাবন সন্ধ্যাটুকু তোমার কাছে চেয়ে নিলাম
অথবা..
বৃষ্টি পড়ে পড়ে মধুর দানা.. ......
খুউব ইচ্ছে করতেছে গান শুনতে .. অফিস ...
ঝম ঝম বৃষ্টি.. আঝোর ধারায়.. অদুরেই কৃষ্ণচুড়ার লাল হয়ে যাওয়া... জানান দিচ্ছে তার প্রেমময় উপস্থিতি.. পর্দাটা সরিয়ে .. শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসে দেখতে ভালই লাগছে.. একটা নষ্টালজিয়া..আহা .. কত্ত স্মৃতি.. ফেলে আসা দিন.. সময়.. ঘটনা..
খুউউব ইচ্ছে করছে ভিজতে... (যতাটা না ভিজার... তার চাইতে বলতে ভালো লাগছে) কিন্তু একটা ঝামেলা.. অতিরিক্ত ড্রেস নেই সাথে... অফিসে থাকতে হইবো সমস্তদিন.. আর সবে মাত্র সকাল... আরো একটা ঝামেলা আছে.. ভিজতে গেলে ক্যামন শীত শীত লাগে.. আর একটু পর .. বৃষ্টিটা থামলে নিচে নামব... বিড়ি খেতে যাবো..সাথে গরুর দুধ-এর চা.. বোনাস ওয়ারীদের রিসিপশনটাকেও একঝলক দ্যাখা...
প্রচণ্ড ভালোলাগার সময়টার জন্য আমি অপেক্ষা করছি.. বৃষ্টির পরের মুহুর্তটা .. বাতাসের গণ্ধটায় ক্যামন একটা মাদকতা.. চারিদিক ঝক ঝকে তকতকে .. পবিত্র পবিত্র একটা অনুভুতি.. আমি মিস করি.. আমি ফিল করি.. হৃদয়ের গহিন থেকে.. আমার সবচাইতে প্রিয় সময়টার জন্য...
কি যেন নাই.. .. ক্যামন যেন খালিখালি লাগতাছে.. .. ক্যান লাগে? যান্ত্রিক নির্ভরশীলতা?.. .. কেটে যাচ্ছে দিন, রাত.. (কিন্তু রক্ত বের হচ্ছেনা).. .. আহা কেউ খুজে পায় না.. .. কস্টে আছে আইজুদ্দিন.. ..বিচ্ছিন্ন .. .. জীবন থেকে? তা তো না.. .. তাইলে? কত শুভাকাঙ্খি.. বন্ধু, স্বজন, চেনা-অচেনা .. প্রয়োজন-অপ্রয়োজনে.. হাসিতে-কান্নায়.. সুখে-অসুখে.. আহা তোমাদের শুনিনা কত্তদিন.. কত্ত কথা-কথি.. খুনোশুটি.. সকালে ঘুমথেকে জাগিয়ে তোলা থেকে সকল এপয়েন্টমেন্ট মনে করিয়ে দেয়া.. পিয়াজ.. মানে পি.এস... .. আহা কি এক শুন্যতা.. ভেতরটা মোচর দিয়ে ওঠে.. ক্যান এত্ত খালি খালি লাগে?
তুমি না থাকলে সকালটা এত মিষ্টি হতো না
তুমি না থাকলে মেঘ করে যেত বৃষ্টি হতো না
তুমি না থাকলে মন কষাকষি..
করে হাসাহাসি নাক ঘষাঘষি
তুমি না থাকলে চাঁদটার গায়ে পরে যেত মরচে
তুমি না থাকলে কিপ্টে লোকটা হতো না খরচে
তুমি না থাকলে স্বপ্নের রং হয়ে যেত খয়েরি
অঞ্জন দত্তের এইগানটা খুব মনে পড়ছে
ছোট্ট এই পৃথিবীটা.. আমার হাতের মুঠোয়.. আর এখন? কেউ অফলাইন দেয় “ভালোবাসাকে তিল তিল করে বাচিয়ে রাখতে হয়, এত্তো রাগ ক্যান?”.. কেউ ‘চ’ বর্গীয় শব্দ উৎসর্গ করে আমার উদ্দেশ্য করে.. কেউ বলে ‘শালা ফকিন্নি’.. কেউ আবার অফিসে ক্রিং ক্রিং.. .. ‘পালাবে কোথায়’.. .. আর আমি? হা.. হা.. হা.. এই বেশ ভালো আছি.. নেট ওয়ার্কের বাইরে..
আসলে হঠাৎই মুঠোফোনটা বিদ্রোহ ঘোষনা কইরা বসলো। এর কোন মানে আছে? আমারটা খাইয়া আমার আদর সোহাগে লালিত পালিত বেটার আৎকা বিদ্রোহ.. .. কত্ত বড় সাহস!!! জরুরী অবস্থার এই সময়ে এত্ত সাহস পাইলো কই? কই আমি তো পারি না.. .. বুকের উপর জলপাই আমার গলাটা চাইপ্যা ধইরা আছে.. বন্ধ কইরা দিছে আমার কণ্ঠস্বর.. আমি হাসফাস করি.. .. একটু নিঃশ্বাসের জইন্যে.. .. আর এইদিকে শালার বাঙালি খুশিতে বগল বাজাইতাছে.. .. যত্তোসব
আমার পিচ্চি ভাগনিটার কথা মনে আছে?
[আগের পোস্ট এ দ্রষ্টব্য]
সকালে অফিসে আসার আগে বলতেছিল..
নিশি: মামা, আর একটু পরে যাও না অফিসে..
আমি: লেট হলে অফিস শাস্তি দিবে...
নিশি: তোমাকে কি তাহলে অফিসের বাইরে কান ধরে দাড় করিয়ে রাখবে?
আমি: অপপ্স... ...
ভালো একটা জ্বালায় পরা গেছে...
আমার কি বলা উচিত?
বৃহষ্পতিবার আমাদের অফিস হাফ থাকে...
তো সকালে অফিসে আসার প্রস্তুতি নেয়ার সময় ছোট্ট ভাগনিটা যার নাম নিশি ও জিজ্ঞেস করলো
নিশিঃ মামা তুমি আজ কখন ফিরবে?
আমিঃ আজতো অফিস হাফ তারাতারি চলে আসবো?
নিশিঃ ও আজ তোমার অফিস হাফ হবে? তাহলে কি তুমি আজ ৭ তলায় অফিস করবে?
(উল্লেখ্য আমার অফিসটা ১৪ তলায়)
বস্তাবন্দি
Categories
- আমার দিনকাল (2)
- বর্ষা (2)
- বসন্ত (1)
- বৃষ্টি (2)
- ভালবাসা দিবস (1)
- মজারু (2)
- মানবতা (1)
- শরৎ কাল (1)
- সংগ্রহশালা (2)
- স্মৃতিচারণ (2)
