রাহেলা জন্য একটা আইপিটিশন খোলা হয়েছে - দয়া করে লগ ইন করে সাইন করুন।

http://www.ipetitions.com/petition/Justice_for_Rahela_Bangladesh/


================

এই আমার দুই পয়সার মানুষরা যুথবদ্ধ হয়ে ভেলরীকে তার প্রাপ্য সন্মান পূনর্বহাল করার প্রচেষ্টায় একসাথে কাজ করেছি... বন্যা দুর্গতদের জন্য সামর্থ অনুযায়ী সহযোগীতা করেছি। এই আমরাই আবার সফি সামির মতো মানুষকে হটিয়ে ভেলরীকে তার স্বপদে পুনর্বহাল করেছি। আমি আবার এসেছি রাহেলার জন্য। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে এক সন্ধ্যয় ধর্ষিত হয়ে খুন হয়ে যাওয়া রাহেলার কথা আপনারা সবাই জানেন। তাকে নিয়ে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিস্তারিত আরিফ জেবতিকের একটি লেখাথেকে সংগ্রহ করে আপনাদের জন্য দিলাম। আশাকরি বরাবরের মতো আপনাদের সহযোগীতার হাত সম্প্রসারিত থাকবে। আসলে মানুষে একা কিছুই নয়... সম্মিলিত শক্তি অনেক অসাধ্য সাধন করতে পারে। আপনাদের সহযোগীতা কামনায়...

=============================================
ভীষন রকম অস্থিরতায় আছি গত দুইদিন ধরে ।এই অস্থিরতাকে ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না ।অফিসের কাজে মন বসছে না,বাসায় মন বসছে না, আড্ডা ভালো লাগছে না, সিগারেটের ছাই এ্যাশট্রে উপচে টেবিলে মাখামাখি হচ্ছে।এই অস্থিরতাটুকু আমি ভুলে থাকতে চাইছি প্রানপন, মুখোশ লাগিয়ে হাসতে চাইছি, বাচঁতে চাইছি আমার নিজের নিরাপদ গন্ডির ভেতর ।পারছি না,আমি পারছি না।রাত গভীরে ঘুমের মাঝে হানা দিচ্ছে একটি করুণ মুখ ।

কানের কাছে বারবার শুনতে পাই একটা কথা,"আমি মরি নাই ভাই,আমাকে বাচাঁন ।"আমি রাহেলার কথা বলছি। যে রাহেলা গভীর অন্ধকার রাতে গলাকাটা অবস্থায় শুয়ে ছিল এক ঝোপের মাঝে সেই রাহেলার কথা ।সেই রাহেলা,যে কোন অপরাধ করে নি,যে কাউকে কষ্ট দেয় নি,কিন্তু এক সন্ধ্যায় তার জীবনটা এলোমেলো করে দিল কয়েকটা পশু ।রাহেলা শুয়ে ছিল গলাকাটা অবস্থায়, রাহেলা একফোটা পানির জন্য কাতরাচ্ছিল, রাহেলা আল্লাহকে ডাকছিল সারারাত জুড়ে, তার আশেপাশে উকি দিচ্ছিল নিশাচর শেয়াল, তার গলায় কামড়াচ্ছিল বিষপিপড়া, রাহেলা ছোট্ট ঘরটি ঐ গ্রামে তার অপেক্ষায় ছিল.....সেই রাহেলা যে তার তীব্র প্রানশক্তি দিয়ে বেচেঁ ছিল, যার তৃষ্ঞার্ত মুখে এসিড ঢেলে দিয়েছিল সেই পশুরা, তবু রাহেলা সব হিসেব নিকেশ অস্বীকার করেছিল ,রাহেলা আশা করেছিল যদি সে আর কিছুক্ষন বেচেঁ থাকে,তাহলে আমরা, এই সভ্যজগতের মানুষরা তাকে বাচিঁয়ে ফেলতে পারবো। রাহেলা আমাদের কাছে এসেছিল, আমরা তাকে বাচিঁয়ে রাখতে পারি নি ।আমরা রাহেলাকে ভুলে গেছি,সেই রাহেলাকে যে তার অপার জীবনীশক্তি দিয়ে কয়েকটি অন্ধকার রাত পেরিয়ে আমাদের কাছে এসেছিল। সে আমাদের হাত ধরেছিল ।আমরা সেই হাত ধরে রাখতে পারি নি ।আমাদের হাতের মুঠি আলগা করে রাহেলা চলে গেছে অন্যলোকে,আর আমরা হাত মুছে ফিরে গেছি নিজেদের যাপনে ।এ আমরা কী করেছি?হায়,এ আমরা কী করেছি ?আমাদের রক্তে যদি মানুষের কিছু থাকে,আমাদের শিক্ষা,আমাদের জীবনের আরো যতো সুখ দূ:খের গল্প যদি আমাদের একবারও স্মরণ করিয়ে দেয় ,আমরা মানুষ ,তাহলে আমরা কি রাহেলার জন্য কিছুই করবো না ?এতো বড়ো একটা পাপ করে কেউ যদি পার পেয়ে যায়,তবে ধিক এই বেচেঁ থাকা,ধিক এই দেশপ্রেম,ধিক নিজের সন্তানকে আগলে রাখা,প্রেমিকার ঠোটে চুম্বন ,ধিক আত্মতৃপ্তিতে বেচেঁ থেকে নিজেকে মানুষ বলে দাবী করা ।প্রিয় ভাই আমার,প্রিয় বোন আমার,এই লেখাটি যদি আপনি পড়ে থাকেন,দয়া করে চোখ বন্ধ করুন,দয়াকরে একবার রাহেলার সেই আকুতি মাখা মুখ স্মরণ করুন ,একবার কান পেতে শুনুন রাহেলা বিচার চাইছে আপনার কাছে,রাহেলা আপনার হাতটি আকঁড়ে ধরে বাচঁতে চাইছে ।রাহেলার সেই চোখকে ফিরিয়ে দিয়েন না।রাহেলার সেই হাতটিকে ফিরিয়ে দিয়েন না ।আয়রে ভাই,হাতে হাত রাখি আরেকবার ।আরেকবার দুই পয়সার মানুষরা যুথবদ্ধ হই ।আরেকবার নিজের কাছে প্রমান করি,মানুষ আছি ।কসম খোদার,এতো বড়ো অন্যায়কে আনচ্যালেঞ্জ যেতে দেব না ।বুক টানটান করে দাড়ারে ভাই,বুক টানটান করে দাড়া ।

===================================

মানবীর পোষ্ট...

সাংবাদিকদের লেখার মাধ্যমেই তিন বছর আগে ঘটনাটি আমরা সবাই জানতে পারি। আজ পুনরায় আপনাদের সহযোগীতার প্রয়োজন কিছু ঘৃণ্য নরপশুদের কাছ থেকে আরো কিছু নাম না জানা নারী শিশু রক্ষার জন্য...

রাহেলা- ২০০৪ সালে কুলাঙ্গার লিটন যার সাথে করে মানবতার ইতিহাসের অন্যতম নিকৃষ্ট ও জঘণ্যতম বর্বরোচিত আচরন! শ্রমজীবি দরিদ্র মেয়েটির বেতনের টাকা ও গহনা ছিনিয়ে নেয়, ৩/৪ জন সহযোগী নিয়ে পাশবিক ভাবে ধর্ষন করে রাহেলাকে। সেখানেই ক্ষান্ত দেয়না নরপশুরা, নিজেদের অপকর্মের সাক্ষ্য মিটাতে হত্যার উদ্দেশ্যে ছুরি দিয়ে ক্ষতবিক্ষত করে রাহেলার শরীর। গলা কেটে দেয়, ছিন্ন ভিন্ন করে রাহেলার স্পাইনাল কর্ড! পচে মরার জন্য হতভাগিনীর ক্ষতবিক্ষত দেহটিকে ফেলে আসে ময়লা জঙ্গলে!

মানুষ রাগের মাথায় বা আতংকিত হয়ে অনেক সময় তাৎক্ষনিক ভাবে কান্ডজ্ঞান হারিয়ে ভয়ংকর কাজ করে বসে, তবে কিছুক্ষণ পর অথবা কয়েক ঘন্টা পর সম্বিৎ ফিরে পেলে অনুতপ্ত হয়। এই কুলাঙ্গার ধর্ষকদের নীচতা ও পাশবিকতা এমন ভয়াবহ যে, দু'তিন দিন পর পরিত্যাক্ত দেহটির হাল জানতে গেলে যখন দেখে রাহেলা জীবিত এবং আকন্ঠ পিপাসার্ত হয়ে তাদের কাছে পানি চাইছে তৃষ্ণা মেটাতে.. এই নরপশুরা পানির পরিবর্তে এসিড ঢেলে দেয় তৃষ্ণার্ত মেয়েটির গলে পচে যাওয়া শরীরের উপর।।।।

আমাদের সমাজে প্রতিনিয়ত অগুনিত রাহেলার জন্ম হচ্ছে... প্রতদিন কোথাও না কোথাও কোন রাহেলা হচ্ছেন ধর্ষিতা, নিপীড়িতা। কোন বিচার নেই, নেই অপরাধীর সাজা। আর এই অভয়ের কারনেই এই ঘৃণ্য নরপশুরা হয়ে উঠে আরো বেপরোয়া। লক্ষ্যনীয় সেক্স অফেন্ডাররা কখনও একটি অপরাধ করে থেমে থাকেনা। সাজা পেলেও, পরবর্তীতে সুযোগ পেলেই হামলে পরে নতুন শিকারের উপর। আর, যদি বিনা সাজায় পার পেয়ে যায়, তাহলেতো কথাই নেই, তারা হয়ে উঠে নির্ভীক আর শেয়ালের মতো চতুর! সুনিপুন ভাবে সংঘটিত করে পরবর্তী অপরাধগুলো। অসহায় নারী শিশুরা মুখ বুজে সহ্য করে তাদের নির্যাতন, কখনও নিরুপায় হয়ে বেছে নেয় আত্মহননের পথ...

প্রধান আসামী লিটন পলাতক। আইনের একটি বড় ফোকর গলিয়ে লিটনের সহযোগী ধর্ষক আর হত্যাকারীরা আজ জামিনে মুক্ত!!!। ডেথ বেড স্টেটমেন্টে রাহেলা সহযোগীদের নাম বলতে পারেনি.... গ্যাংরেপের শিকার একটি মেয়ে, হত্যার উদ্দেশ্যে যার গলা কেটে দেয়া হয়েছে, ছিন্ন ভিন্ন করা হয়েছে কশেরুকা.. শুধু তাই নয় এসিডে দগ্ধ গলে পচে যাওয়া শরীর নিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় পরেছিলো কিছুদিন... স্টেটমেন্ট দিতে কতোটুকুই বা এক বারে বলতে পারে!!!!! তিনি ধীরে ধীরে তাঁর মা'র কাছে সবার নাম জানিয়েছিলেন... আর সব চেয়ে বড় কথা.. রাহেলা শরীরে বহন করেছিলেন এসব নরপশুদের আস্তিত্বের চিহ্ন!

আরেকটি সুত্র থেকে জানা যায়, "লিটনের সাথে রাহেলার শশুরের পারিবারিক পূর্ব শত্রুতা ছিলো! ঘটনার বেশ কিছুদিন আগে লিটন রাহেলাদের বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়েছে.." তবে এই তথ্যের ভিত্তি বা বিশ্বাসযোগ্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত নই!

"রাহেলা হত্যা মামলা" এখনও আদালতে চলছে, কিছুদিন পর এর শুনানি। সাংবাদিকদের কাছে বিনীত অনুরোধ.. আপনাদের কলমের খোঁচায় আবার তুলে ধরুন এই হতভাগিনীর কথা.. এই নরপশুদের কুকর্মের কথা স্মরণ করিয়ে দিন আমদের বিস্মৃত জাতিকে...আপনার কিছু সময় হয়তো সাহায্য করবে এই ঘৃণ্য নরপশুদের সাজা দিতে।

আগামী ২৯শে অক্টোবর, ২০০৭ কেসটি কোর্টে উঠবে সাক্ষ্য গ্রহনের জন্য। ঢাকায় অবস্থিত 'আইন ও সালিশ কেন্দ্র' মামলাটি পরিচালনা করছে। প্রধান আসামী লিটন এখনও ধরা পড়েনি। লিটনের ৪ সহযোগী হাইকোর্ট থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছে...

সংবাদ পত্রে আবারো রাহেলার কথা তুলে ধরা হলে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হয়তো কিছুটা টনক নড়বে.. এতো সহজে লিটনের সঙ্গীরা, যারাও এই ধর্ষন আর হত্যার সাথে সমান ভাবে জড়িত তারা যেন ছাড়া না পায়...

অসহায়, দরিদ্র ঘরের কন্যা.. তাঁর পরিবারের অঢেল টাকা, পরিচিত, ক্ষমতা কিছুই নেই.. কালের স্রোতে হারিয়ে যায় এসব নির্যাতিতা হতভাগিনীদের কথা... পুরনো পত্রিকার পাতার খবর হয়েই থেকে যায়..এদের প্রতি করা অন্যায়ের প্রতিবাদ করার তেমন কেউ নেই, এদের হয়ে লড়াই করার কেউ থাকেনা.. মূল্যহীন এদের জীবন, তার চেয়েও মূল্যহীন এঁদের মৃত্যু.. অথচ, আপনার আমার মতোই এরা বাংলাদেশী, আমাদের কারো চেয়ে এদের নাগরিক অধিকার এতোটুকু কম হবার কথা ছিলোনা...

রাহেলার সাথে করা পাশবিক আচরন সাংবাদিকরা তুলে ধরেছিলেন সমগ্র দেশের মানুষের কাছে.... আজ তাঁর উপর করা নির্মম নির্যাতনের ন্যায়বিচারের জন্য সাহায্য করুন প্লিজ!

আগামীকাল রাহেলার অবস্থানে যে কেউ হতে পারে.. আমি, আপনি, আপনাদের স্ত্রী, কন্যা, বোন, পরিচিতা...

সাংবাদিকদের প্রতি একান্ত অনুরোধ.. আপনারা আরেকবার এগিয়ে আসুন এই দুর্ভাগা, নির্যাতিতা, দরিদ্র মেয়েটির প্রতি করা অন্যায়ের ন্যায্য বিচারের সাহায্যে...

২০০৪ সালে প্রকাশিত ডেইলী ডেইলী স্টারের প্রতিবেদন

রাহেলা হত্যা মামলার বর্তমান অবস্থা জানতে 'ফয়সল নোই' এর অসাধারন প্রচেষ্টা




নেক্সট ইউক এ ঈদ। রাস্তাগুলো ঘড় মুখো মানুষের ভীড়। ছুটছে সব্বাই শেষ মুহুর্তের কেনাকাটায়। কেউ ছুটছে গ্রামের বাড়িতে পরিবার পরিজনের সাথে ঈদ করবে বলে। এখনো ঈদ শপিংএ যাইনি। যাব কি যাবনা ভাবছি। ইনডিসিশন নাকি মধ্যবিত্তের টানপোড়ন? আমার হয়তো কিছুই লাগবে না। ইতিমধ্যেই অনেক কিছু পাওয়া হয়ে গেছে। এখন শপিং এ যাওয়া অন্যদের জন্য। দায় শোধ। মধ্যবিত্তের সেন্টিমেন্ট। কাজিনগুলোর অপেক্ষা... ভাইয়া কি দিবে এবার? বড় মামা সবচাইতে দামি ড্রেসটা এখনো দিচ্ছেনা ক্যান?

আচ্ছা জরুরী অবস্থার মধ্যে ঈদটা এক বছর আটকে রাখা যায় না? মই নিউ তত্ত্বে এ বিষয়ে কি বলে? অথবা মই নুল এর কোন জামাতী বিবৃতি? দুই মই এর চিপায় পইরা আম জনতার পকেটের অবস্থা পাংখা। কিন্তু বাঙালীর বগল বাজানো বন্ধ হইতাছে না। দ্যাশের বড় একটা অংশ এখনো মনে করে জলপাই ভালো। যত্তোসব।

বাচ্চা গুলো ডিশ এর মধ্যে পানি নিয়ে খেলা করছে। পানি শেষ হয়ে গেলে আবার ভরে আনছে আবার খেলতেছে। হঠাৎ এর মধ্যে একটা বিষাক্ত শাপ চলে আসলেও সুবোধ বাচ্চাগুলোর কেউ বুঝতেছে না শাপটা আসলে কি করতে পারে।

এই বাচ্চাগুলো কবে বড় হবে? কেউ কি বলতে পারেন?


শরতের ক্ষয়ে যাওয়া মায়াবী চাঁদ... অভিভূত। অদ্ভুত সুন্দর। মধ্য গগনের চাঁদ.. রূপালী আলো... মায়াময় চারিদিক.. এতোটা স্নিগ্ধতা দিবসে কোথায় থাকে? নাকি নির্জনতার জন্য এমন মনে হচ্ছে? .. চারিদিকে সুনসান.. .. বারান্দায় পায়চারি করতে ভালোই লাগে। আরো একটা কারনে বারান্দায় .. সিগারেট। ঘড়ে বসে... উফ্ চারিদিকে বিড়ির গন্ধ... বিরক্তিকর।

চাঁদটার কি অনেক কষ্ট? ক্যামন যেন একা একা সমস্ত রাত্রিই ঘুরে বেড়ায়। এটা কি কস্টের? লিজার শেষ কথাটা মাথার মধ্যে সেই তখন থেকে ঘুরপাক খাচ্ছে। মুঠোফোনে মধ্যরাতের কথোপকথোনের এক পর্যায়ে ও বলেছিলো “তুমি কি জানো যে তুমি কতটা একা?” আমি আশ্চর্য হয়ে গিয়েছিলাম। সেই থেকে মাথার মধ্যে ঘুরতেই আছে। সত্যিইতো।

দিবসের ব্যাস্ততা শেষে ক্লান্ত অবসন্ন হয়ে যখন বাসায় ঢুকি... সত্যি একধরনের একাকিত্বে পেয়ে বসে। বের হতে পারিনা কোনভাবেই। সময় পার হয়ে যায় দেখতে দেখতে। আমি শুধু আমার জায়গায় স্থির। ইদানিং আরো উপসর্গ লক্ষনীয়ভাবে যোগ দিয়েছে - কনফিউশন। পেয়ে বসছে আমাকে। কোন ভাবেই কোন সিদ্ধান্তে পৌছতে পারিনা সহজেই। কি করাইবা উচিত? সিদ্ধান্তহীনতায় কুড়ে কুড়ে ক্ষয়ে যাচ্ছে জীবন... সমাধান? অসম্ভব

জীবনতো কেটে যাচ্ছে। সময়ও বসে নেই। স্ট্যাগ হয়ে থাকা সময়গুলো কি আসলেই বসে নেই? আচ্ছা, আমরা সব্বাই কি একা নই? চারিপাশের এত্ত এত্ত মানুষ তাও আমরা কত্ত একা। ভাবনার জাল ছিন্ন হয় মুয়াজ্জিনের আহ্বানে “আচ্ছালাতু খাইরুম্মিনানাউম”। দীর্ঘ রজনীর অবসান। ব্যাস্ততামুখর আরো একটি দিনের হাতছানি। কর্ম চাঞ্চল্যের সুধায় বুদ হয়ে থাকা।

জোনাক জ্বেলে লক্ষ কোটি
রাতের কাছে চাদের চিঠি
নীল জোছনায় তুমি কোথায়

মন চায় মন শুধু যে তোমায়
দিন যায় দিন তোমারি আশায়
নীল জোছনায় তুমি কোথায়?

রাত নির্ঘূম লাগেনা ভালো
মন দুয়ারে জানালা খোল
নীল জোছনায় তুমি কোথায়


দ্যাশ ভালো নাই... চারিদিকে ডুবন্ত বাড়ি ঘড়। যেই পানির নাম জীবন, সেই পানি আজ আমাদের দাড় করিয়েছে ধ্বংশের দ্বারপ্রান্তে।

কিছু লিখতে ইচ্ছা করতেছেনা। প্রচণ্ড একটা কষ্টে কুকড়ে আছি। আক্রোশে ফেটে যেতে ইচ্ছে করতেছে। ক্যান আমার অনেক অনেক ক্ষমতা নেই? মানুষের ক্যান এত্ত কষ্ট? ক্যান আমি এক লহমায় সব কষ্ট মুছে দিতে পারি না? শুধু টেলিভিশন আর খবরের কাগজ পড়ে কিছু বোঝা যাবে না। কিছু না.. কিছু না..

রমিজের ৩০ বছরের সংসার। তিল তিল করে গড়ে তোলা সংসার। এক রাত্রের পানিতে সব শেষ। এক মুহুর্তে কি ভাবে মানুষ ভিখারি হয়ে যায়.. .. এ লেখা পড়ে কেউ বুঝতে পারবে না তার কষ্টটা.. ..

আমি কতটা ক্ষুদ্র.. কতটা অসহায়.. কতটা অক্ষম.. এটা ভেবে প্রচণ্ড কষ্টে বাঁচি.. বাঁচতে হয়.. বন্যা নিয়ে একটা লেখা পরতেছিলাম কয়েকদিন আগে.. যেখানে বর্ণিত ছিলো একটি কিশোর এর কথা.. "আমি ভিখারী নই, আমাকে একটু সাহায্য করুন, বাবার শরীরে প্যারালাইছিছ!” ছেলেটা বোকা.. ও জানে না, আমরা সাহায্য করবো না.. আমাদের সব্বার বিবেক যে আজ প্যারালাইছিছ..

চির সুখি জন
ভ্রমে কি কখন
ব্যাথিত বেদন বুঝিতে পারে?

আজ বার বার মনে হচ্ছে.. .. আমাদের সব্বার বিবেক আজ প্যারালাইছিছ



ঘড়ির কাটাটা এখন বড্ড বেশী সময় নিয়ে ঘুড়ছে.. কাটতেই চাচ্ছেনা সময়.. সমস্ত রাতটুকু জুড়েই এক ধরনের অস্থিরতা .. বাকি রাতটুকু কখন পোহাবে.. কখন সকাল হবে... কখন দশটা বাজবে... উফ্ .. কতক্ষন না দেখে কাটানো যায়? ত্বাবীব একা একাই বির বির করে সারা ঘর পায়চারী করতেছে... ক্যামন যে লাগতেছে। মাথার উপর ফ্যানটাও ঠিক মতো ঘুরতেছেনা... কি দরকার ছিলো রাত তৈরী করার? জীবনে রাত না থাকলে কি এমন ক্ষতি হতো? যত্তোসব.. এত্তক্ষন না দেখে থাকা যায়?
ত্বাবীব এবং অহনা একি বিশ্ববিদ্যালয়ের একি ডিপার্টমেন্টে ভর্তি হয়েছে। যেদিন অহনাকে প্রথম দেখে কতক্ষন যে স্টাচুর মতো দাড়িয়ে ছিল বলতে পারবে না। বুকের ভেতরটা ক্যামন যেন একটা শিহরন বয়ে গিয়েছিল.. মাথা কাজ করছিলোনা.. রাতের নিস্তব্দতা ভেঙ্গে দুরের মসজীদে মুয়াজ্জিনের ভারাট কণ্ঠে চমকিত হয় ... "আচ্ছালাতু খাইরুম্মিনান্নাউম".. ত্বাবীব শুয়ে পরে... বিছানায় এপাশ ওপাশ... রাত্রীর শেষমুহুর্তে একটু চোখটা বুজে নেয়া দরকার.. নাহলে চোখের নিচে কালো দাগ পরবে...
ঘড়িটা অনেক্ষন চিৎকার করতেছে। ঘুম ভাঙানির যন্ত্রটার যে এত্ত বিশ্রী শব্দ হয় আগে ধারণা ছিল না। পৃথীবিতে এত্ত সুন্দর সুন্দর শব্দ থাকতে ক্যা কু ক্যা কু শব্দ কে যে এইটার ভিতর ইনস্টল করছে গড নোজ। বেটারে সামনে পাইলে সারাদিন কান ধরে উঠবস করাইতাম।
ধরমর করে বিছানায় উঠে বসে ত্বাবীব.. ৯টা.. মাই গড। দ্রুত শাওয়ার নিয়ে ফ্রেস হতে হতে পাঁচবার আয়নায় চোখ বুলানো হলো। ড্রেস কি 'সোল ড্যান্স' চলবে? নাকি 'আর্টিস্টি' মারবো? উফ ছোট বোনটা বাসায় থাকলে ওই সব গুছিয়ে দিত। ক্যান যে ওকে বিয়ে দেয়া হলো!!!!
দুইটা ব্রেড দু হাতে নিয়ে ছুটছে ত্বাবীব। শালা... রাস্তায় কোন রিক্সাও নেই আজ.. স্কুটার ওয়ালা সিট এর উপরে পা তুলে আয়েশ করে বিড়ি টানতেছে। মতলব ভালোনা। দিগুন ভাড়া অফার করেও রাজী করানো গেলনা।
এখনো আসছেনা ক্যান? এতক্ষন লাগে? কাটায় কাটায় ১০টা... বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে রাস্তায় অস্থির পায়চারী.. রিক্সাওয়ালাগুলোও যেন আজ বেয়ারা হয়ে গেছে... বার বার গায়ের উপর এসে পরছে... মেজাজটা খিচরে যাচ্ছে.. .. বার বার হাতের মুঠি বন্ধ আর খোলা.. আজ কোনা ভাবেই রাগ করা যাবে না.. নিজেকে কন্ট্রোল এর আপ্রাণ চেষ্টা
হা.. হা.. হা.. হি.. হি.. হি.. হো... হো.. হো... দুই পাটি দাত.. পুরোটাই বের হয়ে পরছে.. .. আহা কি আনন্দ আকাশে বাতাসে.. কে যে এই গানটা গেয়েছিলো... ব্যাটার মাথায় মাল আছে.. আমার রাজকন্যা .. ওইতো দেখা চাচ্ছে.. সেই পরিচিতি চুল.. পরিচিত চোখ.. ঠোট.. নাক .. মুখ .. সব .. ত্বাবীব ভাবে.. বিয়ের পর এই মেয়েটাকে বুক পকেটে ঢুকিয়ে রাখবো.. একটু পর পর বের করে দেখবো.. আরো কত্তো যে স্বপ্ন অহনাকে ঘিরে..
রিক্সাথেকে নেমে গট গট করে সোজা ক্লাসে... মেয়েটার মনে কি একটুও দয়ামায়া নেই? ওর জন্য সেই কখন থেকে অপেক্ষা করছি.. ত্বাবীব এর ঠোটটা ফুলে ওঠে অভিমানে.. চোখটা ছল ছল করে ওঠে.. চোখের নিমিষে কষ্টের একটা স্রোত সমস্ত শরীরে বয়ে যায়.. ক্যান এমন কর তুমি? এই মেয়ে তুমি কি জানো তোমার জন্য কত্ত রাত নির্ঘূম কাটিয়েছি? মেয়েরা ক্যান এমন হয়? অজান্তেই একটা দীর্ঘশ্বাস বের হয়ে যায় ত্বাবীব এর।
ত্বাবীব এভাবেই প্রতিদিন অহনার জন্য অপেক্ষা করে.. কবে তার রাজকন্যা তার দিকে একটু মুখ তুলে তাকাবে.. সে আশায়.. ..

দিনগুলি বড্ড বেশী ছকেবাধা। ৯টা ৫টা জীবন। আর ভাল্লাগেনা। ইদানিং চাওয়া পাওয়ার হিসাব বড্ড বেশী গোলমেলে মনে হয়। ভালো না লাগার এটাও বোধহয় একটা কারণ। সিগারেটে সুখ টানটা দিয়ে ফেলতে ফেলতে ঠিক করে ফেল্লাম। জাম্পেশ আড্ডা হবে। ওয়েদারটাও জশিলা। রুহানামার প্রস্তাবনায় ওর বাসায় বসার স্থান নির্ধারীত হলো। দুপুরে খাওয়ার পাট চুকিয়েই বেরোব বলে ভাবছি। পথেই জনি কে তুলে নিবো। রিং দিলাম। উফফ্... এই বয়সের পোলাপাইন কত্ত ভ্যারাইটিজ ওয়েলকাম টিউন ইউজ করে... আর কি বোরিং একঘেয়ে টিইইইইট টিইইইইট। যত্তোসব। আরে বাপ ফোনটা ধর। ঘুমাচ্ছে নাকি? শালা... সবি ফোন কোম্পানীর নাইটবার্ড এর সাইডএফেক্ট।

ছুটলাম ১৪ নম্বর রোডে রুহাইনামার বাসায়। রুহান আর আমি।

রুহান এর সাথে রুহাইনামার এ্যাফেয়ার বড়জোর বছরখানেক হবে হয়তো। এক বছর অনেক লম্বা সময়। পুরো ৩৬৫টা দিন। অনেক কাঠখড় পেরিয়ে আজ ওরা একসাথে। ভালো লাগছে দুটো সুখি মুখ দেখতে। হালকা নাস্তার পর শুরু হলো লুডু খেলার প্রতিযোগীতা। আমি আর রুহায়নামা। অপরদিকে রুহান আর মনীষা। র্ফাস্ট ডিল তিন... রুহান পাঁচ... রুহায়নামা ছক্কা ... ওয়াও... প্রচন্ড চিৎকারে ঘর ফাটানোর উপক্রম। উহ শিট্। পর পর তিনবার ছক্কা। বেচারীর জন্য মায়া হলো। হা.. হা.. হা.. চেহারাটা যা হয়েছে। টিপ্পনি কাটা যাচ্ছেনা আমার পার্টনার বলে। জমজমাট ভাব চলে আসলো কিছুক্ষনের মধ্যেই। রুহানটাকে নিয়ে আর পারা গেল না। এত্ত চুরি করে... বয়স হইছে এইবার একটু ভদ্র হ.. না তার আর জো নেই। আর রুহায়নামা? সে আবার উল্টা। কোনভাবেই সে রুহান এর কোন গুটি আউট করবে না। পাছে রুহান মনে কষ্ট পায়। কত্ত পিরিত... যথারীতি কিছুক্ষনের মধ্যে আমরা চিৎপটাং। রুহায়নামার চোখ চিক চিক করতেছে খুশিতে। মনে হলো সেই জয়ী হইছে... রুহান নয়।

খেলা শেষ। ছাদে উঠলাম। কি হয়েছে আজ আকাশটার? হঠাৎ হঠাৎ পৃথিবীকে অন্ধকার করে কাঁদছে ক্যান? আচ্ছা আকাশটা এত কান্না কোথায় লুকিয়ে রাখে? একটু পর পর এভাবে ডুকরে কেদে ওঠা। নিজের মধ্যেই ভাংচুর। প্রচণ্ড একটা কালবৈশেখী ঝড়ের বড্ড বেশী প্রয়োজন আজ। ভেঙ্গেচুরে তছনছ করে দিয়ে যাক সব কিছু।

ইটের পরতে পরতে বুনব নতুন আকাশ। নীল আকাশ। যেখানে উড়বে সাদা মেঘের ভেলা। বিনির্মীত হবে সোনালী স্বপ্ন। ফেলে আসা সকল কান্নাকে ঝেড়ে ফেলে সুখ সুধা অবগাহনে এমন একটা স্বপ্নীল আকাশ আজ বড্ড বেশী প্রয়োজন।

৭৮৬
...:: এলাহি ভরসা ::...
যাও পাখি বলো তারে
সে যেনো ইমেইল করে

পরিবার..ক্যারম আছো? শইলডা বালা? আহারে... খাটতে খাটতে আমার বউডার গতরডা এক্কেবারে (ওয়ার্ড খুইজ্যা পাইতাছিনা) ... এত্তো ব্যস্ত থাকো যে সোয়ামীর একদণ্ড খবরও লইতো পারো না... বিয়ার পর ও কি এরম হইবোনি? তাইলে তো দিলে বহুত চোট পামু... তাইলে বাচুমনারে জা-আ-আ-আ-ন-ন-ন-ন...

তেতুল পাতা তেতুল পাতা তেতুল বড় টক
বন্ধুর লগে কইতে কথা আমার বড় শখ

বালো বাসো কিনা বাসো সখি টেরাই করো আমারে... আমি বালো বাসি তোমারে... কি বুজলা? তুমি আমার সোনার চান পিতলা ঘুঘু... আমার দিল খুস বেগম... তুমি আমার আন্দার রাইতের চান্দের আলো (নাকি এইখানে মোমবাত্তি হইবো??)... সখিগো তোমার বিহনে আমিতো এক্কেবারে ঝুইল্যা (হ্যাং) যামু... আমারে তুমি গাছে উডাইয়া মই-ডা সরাইয়া লইয়া যাইওনা কইলাম...

ও স্ত্রী (আয়রন).. হোনো... টাইম মতো খাইবা... জানি তোমার বিতরে অহন উথাল পাথাল... তাও.. নিজের দিকে ইট্টু খেয়াল রাখবা... আর হোন... বেগানা পুরুষ পোলা যানি তোমার দিকে না চায়... তাইলে আমি কলাম উই ফকিন্নির পুতের চক্কু তুইল্যা ফালামু... আমার পরিবারের দিকে চোক তুইল্যা চাইবো তো ... খবর কইরা ছাড়মু... যাউকগা... তুমি বালো থাইক্যো... ঠিক আছে? আর আমারে তোমার দিলের কতা খুইল্যা লেখবা... বুজছ? অহন তাইলে রাখি?

ফ্যানের পাখা লরেচরে
তোমার কতা মনে পড়ে

রিপোর্টটা এখনো শেষ হচ্ছে না। কখন যেন বস ডেকে বসে। একটু অস্বস্থিতে আছি। কিছু ব্রাঞ্চের রিপোর্ট সম্ভবত মিস হইসে। না হলে প্রায় ১০ কোটি টাকার সেভিংস কমলো কিভাবে? তিন হাজার এর উপরে ব্রাঞ্চ। কোনটা কোনটাতে যে প্রবলেম হলো খুজতো গিয়ে এই শিতাতপ নিয়ন্ত্রিত অফিসে বসেও ঘামছি। রুহায়নামা এসে উপস্থিত।

ভাইয়া একটু বসি?

কম্পিউটার স্ক্রিন থেকে চোখটা না তুলেই বলি ’উমম’

ঃ কি খবর রুহাইনামা?

ঃ ভাইয়া... নিজের উপর ঘেন্যা ধরে গেছে। আমি চমকাই। রিভলভিং চেয়ারটাকে ওর মুখোমুখি করি। জিজ্ঞেস করি...

ঃ কাল রাতে কি খুউব ঝগড়া হয়েছে? চেহারার এই অবস্থা করেছো কেন?

ঃ ভাইয়া ও আমাকে কনটিনিউ ট্রেস করতেছে।

ঃ কিভাবে?

ঃ আমি কখন কোন এলাকায় থাকি সব ও ওর বন্ধুর মারফত জেনে যাচ্ছে। ব্যাপারটা আমার কাছে বিশ্রী লাগতেছে। ও আমাকে সন্দেহ করতেছে। আমি তো পুরা হতভম্ভ।

ঃ কিভাবে ট্রেস করছে? কাউকে কি তোমার পেছনে লাগিয়েছে?

ঃ হ্যা ভাইয়া। আপনি তো জানেন-ই যে আমি বাংলা লিংক ইউজ করি।

ঃ তো?

ঃ ওর এক বন্ধু আছে বাংলা লিংক এ... আমি কখন কোন টাওয়ার এর কাছা কাছি আছি সব ওকে জানিয়ে দিচ্ছে।

আমি আসলে কি জিজ্ঞেস করবো বুঝতেছিনা

ভাইয়া .. ও আমকে জিজ্ঞেস করেছে আমি ন্যাম ফ্লাট এ ক্যান গিয়েছি? ভাইয়া সত্যি আমি ন্যাম ফ্লাট এ যাইনি। আমি রাজা বাজার এর এই মাথায় সিঙ্গার এর শোর রুম এ গিয়েছিলাম একটা এসি দেখার জন্য। এইযে দেখেন ব্রোসিওর। কিন্তু ও বিশ্বাস করতেছে না। ভাইয়া এটা আমার প্রচণ্ড ইগোতে লাগছে। ওর সাথে আমার পক্ষে আর কনটিনিউ করা পসিবল না। ভাইয়া আমার খুব কষ্ট হচ্ছে। উফফ্... আর পারা গেলনা এই দুইজনকে নিয়ে। দেখি দুইজনকে নিয়ে আবার বসতে হবে।

ব্যানসনটা এইবার ছাড়তেই হইবো। একটু কড়া কড়া লাগতাছে দিন কয়েক যাবৎ। বুকটায় মাঝে মাঝে চিন চিন কইরা ওঠে। এইটা আসলে কিসের আলামত বুঝতাছিনা। অনেক দিন হইয়া গেল এই ব্রাণ্ডটায়। বদলাইলে ক্যারম হয়? কিন্তু এরপর? ওই মানের তো আর কাউরে দেখতাছি না এই মুহুর্তে। ব্যানসন লাইট কয়দিন টাইনা দ্যাখা যাইতে পারে। এই দিকে অফিস কইয়া দিছে.. বিড়ি টানলে চাকরি থাকবোনা। কথাডা মনে হইলেই মেজাজ খিচরে যায়। যত্ত সব। রুটিরুজি দেইক্যা কিছু কইতেও পারিনা। অফিসের চৌহদ্দি ছাইড়া দুরে যাইয়া বিড়ি টাইন্যা আসি গজড় গজড় করতে করতে।

এইদিকে শালার বারটেন্ডার স্ক্র-ড্রাইভার থিকা দুরে আছে বহুত দিন হইয়া গেল। তার গার্ল ফ্রেন্ড এহন দ্যাশে। তারে দৌড় এর উপর রাখছে। দুষ্ট পোলাপাইন পাছে মুখ টিপে হাসে। ব্যাচারা। অফিস ... জিএফ ... বাসা ... কত্তকি... । মাঝে মাঝে খ্যাপতে খ্যাপতে আইয়া কইবো ‘বস... এইভাবে তো চলে না... আর কত? স্যাক্রিফাইস করতে করতে তো নিজেই স্যাক্রিফাইস হইয়া গ্যালাম’ আমি হাসি। পোলাপাইন। পিঠে হাতবুলাইয়া কজে মনোযোগী হইতে কই। আবার নতুন উদ্যোমে ডেটিং, নতুন উদ্যোমে ঝগড়া। হাহাহাহা

অফিসটার পেছনদিকটায় বিশাল একটা খেলার মাঠ। মহল্লার পোলাপাইন রেগুলার ক্রিকেট খ্যালে। জাতীয় দলে ডাক পাওনের আশার অবিরাম পরিশ্রম। মাঠটার ঠিক ওই পারেই ফাষ্টফুডের দোকানটা। এইটা আসলে একটা চা এর দোকান। আমি নাম দিছি আমাগো ফাষ্টফুড। এইখানে নিয়মিত চা খেতে আসি। ভিতরে বইসা একটা আয়েশ কইরা বিড়ি ধরাই। ইদানিং ফাউজিয়াও আমার সাথে যোগদিছে চা খাওয়ার লাইগ্যা। নিচ থেকে ১১:৩০তে ফোন করবো। ‘ভাইয়া নামেন। চা খাওয়ার সময় হইছে।’

আসলে যতনা আমারে চা খাওয়ানোর জন্য ডাকা তার চাইতে বেশি হইলো ওর বিএফরে একনজর দ্যাখা। বিএফ আবার সিসটেম ইঞ্জিনিয়ার। এই পোলাটা আমার খুউব ভক্ত। আমি চা খেতে নামলে ওরে লগে লইয়াই নামি। এই দুইটারো একি সমস্যা। সারাদিন ঝগড়া করবো। দুই পক্ষেরই বিস্তর নালিশ। ‘ও অমুক পোলার লগে কথা কইছে’ ‘এ অমুক মাইয়ারে এসএমএস করছে’। এক্কেবারে হুদা মিছা ঝগড়া।

ভালোই লাগে এই দুইজনের ঝগড়া দ্যাখতে। পিড়িত কিন্তু কম না। একজন আর একজনরে না দেইক্যা থাকতে পারে না। খুউব ভালো লাগে যখন দেখি ঝগড়া কইরা দুইজন দুইজনের চুল টানাটানি শুরু করছে। হাহাহাহা... দুইটাই পুরা পাগোল। হা... হা... হা... হা... হা... হা... হা... হা... হা... হা... হা... হা... হা... হাসতে হাসতে চোখে পানি চলে আসে। ভালোবাসাটা আসলেই একটা পাগলামি.. তাই না? একটু হাসি ... একটু কান্না... একটু অভিমান... একটু খুনোসুটি... একটু ঝগড়া... আবার গলাগলি... ব্যাস্ততার কারনে না দেখার সময়টাতে দুজন দুজনকে প্রচণ্ড ভাবে মিস করা। পরবর্তী সময়ে আবার নতুন করে নিজেদের আবিস্কার। হৃদয়ের অনুভুতি চোখে জলধারায় প্রকাশ।

বাঁচবো যতদিন ততদিন আমি
মনে রেখ ভালোবেসে যাবো তোমাকে
বিশ্বাস করি আহা ভালোবাসা দামি
সেই ভালোবাসা তুমি দাও আমাকে
এই বুকে রেখেছি আমি তোমাকে
রেখেছি চোখের তারায়

মনটা খারাপ হইয়া গেল...

কখনো আমার মা কে গান গাইতে শুনিনি
সেই কবে শিশু রাতে ঘুম পাড়ানির গান গেয়ে
আমাকে কখনো ঘুম পাড়াতেন কিনা আজ মনেই পরেনা......

শামসুর রহমানশামসুর রহমান এর কথাটা একদম সত্যি... আমিও আমার মা'কে কখনো গান গাইতে শুনিনি...

তার এই সময় কোথায়? সব সময় আমাদের নিয়েই ব্যাস্ত থাকতো... তবে আমার মা গান শুনতো... আমার দিনের শুরুটা হয় মা এর ডাকে... 'টুটুল, ওঠ... ৭টা বাজে, অফিসে যাবি না?... ' জীবনের পরতে পরতে জড়িয়ে আছে আমার মা... সন্তানকে আর কে এমন ভাবে ভালোবাসতে পারে? কেউ না... কেউ না... এত্ত নিঃস্বার্থ ভালোবাসা আর কেউ দিবে না...

পৃথিবীর সবচেয়ে মধুর ও সবচেয়ে বেশী উচ্চারিত শব্দটি হলো মা... আর এই মা কেই আমরা শুধু একটি দিবসে বন্দি করে ফেলছি... এটা ঠিক না - এটা ঠিক না।

পৃথিবী জুড়ে পালিত হচ্ছে মা দিবস... এর পিছনে যতটা না মা'র জন্য ভালোবাসার প্রকাশ থাকে.. তারা চাইতে বানিজ্যিক করাণটাই বেশী শক্তিশালী মনে হয়...

তবুও আমি এই গতানুগতিকতা ভেঙ্গে ফেলতে চাই না... যারা শুধু মাত্র এইদিন মা কে মনে করেন... তাদের জন্য আমার দুঃখ হয়... ঘরে এবং বাইরের পৃথিবীর সকল মা, মা'র সন্তানেরা সুখে থাকুক... শান্তিতে থাকুক... যেখানে আমার মায়ের সুখ নিহিত... মা তোমাকে আমি সবচাইতে বেশী ভালোবাসি... ভালো থাকো আমার মা জননী...