সুখ কি?

সুখ কি?

সুখ- এর জৈবিক সংজ্ঞা : কোন স্টিমুলাস বা উত্তেজকের প্রতি আমাদের মস্তিষ্কের রাসায়নিক ও স্নায়বিক প্রতিক্রিয়া যা আমাদের ভেতর সুখের অনুভব তৈরী করে


আবিষ্কৃত রাসায়নিক যৌগ "এন্ডরফিন্স"গুলোকেই এই "সুখের" মূল বলে বিভিন্ন গবেষনায় জানা যায় এখন ঘটনা হইলো, এন্ডো মানে হইলো ভিতরের আর মরফিন মানে বেদনা নাশক তার মানে কি দাড়াইলো ? সুখের রাসায়নিক শরীরের ভিতরের বেদনাকে কিংবা অসুখের অবস্থাকে পরিবর্তন করে সুখের অবস্থায় নিয়ে যায়


ক্ষুধা পেলে সুস্বাদু খাবার আমাকে সুখ দেয়, সুখ দেয় প্রিয় মানুষের চুম্বন। প্রিয় দেশের জয় আমাকে সুখ দেয়, সুখ দেয় পড়ন্ত বিকেলের রোদ। সুখের অনুভবকে বিশ্লেষন করতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা তাই ইন্দ্রিয়কে অনুসন্ধান করেছেন, মানবের মস্তিষ্ককে কেটে ছিড়ে দেখেছেন এবং আমাদের জানিয়েছেন - সুখের স্টিমুলাস বা উত্তেজক শরীরের বাহির থেকে পাঁচটি ইন্দ্রিয়ের সাহায্যে ভেতরে আসুক, অথবা ভিতরের কোন এক উৎস থেকে মস্তিষ্কে পৌঁছাক - সুখ আসলে শেষ পর্যন্ত কিছু জৈব রাসায়নিক পদার্থের উপস্থিতি ।


জীবণে সবাই সুখী হতে চায়, কিন্তু, কেউ কি একজন সুখী মানুষের ছবি চিএপটে তুলতে পারবেন? না, আমরা কেউ পারব নাআশ্চর্য, কি অদ্ভূত অক্ষমতা!!! আসলে সুখ কি? সন্তুষ্টি, আনন্দ, হাসি, তৃপ্তি, সাফল্য, সমৃদ্ধি, সম্মান, স্বীকৃতি, ভালবাসা, যত্ন -এগুলো কি সুখের অবয়ব? কি দিয়ে সুখের ছবি আঁকা যায়? আমি সুখ খুঁজি অনুভূতিতে, ভাবনায়, না পাওয়ার এ পৃথিবীতে কিছু পাওয়ার মাঝেহয়তোবা, অন্যরা ভাববে ভাবুক মানুষ, ভাবনায় সুখ খুঁজে নেনজীবণের চৌহদ্দিতে কোন চমক নেই, কোন অর্জন নেই, তারপরেও ভাবে সুখীএখানেই জীবণের বৈচিএ্যএকেক মানুষ একেক ভাবে দেখে

সুখ কি প্রজাপতি, প্রেয়সীর মিস্টি হাসি, ভোর রাতের মিস্টি স্বপ্ন, চায়ের কাপে উষ্ণ চুমুক, কর্মব্যস্ত দিনের শেষে রবীন্দ্রসংগীত, রিমঝিম বৃস্টির শব্দ, তপ্ত সন্ধ্যায় দক্ষিণা বাতাসের আলতো ছোঁয়া, মুঠো ফোনের সেই রিংটোনটি, জোৎস্না রাতে রূপালী আলোর বন্যা, কিন্নরীর সুর, অপেক্ষার অকস্মাৎ অবসান, নিস্পলক দৃস্টি, অপ্রশস্ত বারান্দায় পদচারিতার পদধ্বনি? আসলে কি জানেন, সুখ আপনার খুব কাছাকাছি বসবাস করে, খুঁজে নিতে হয় তাকে, আপন মনের মাধুরী মিশিয়ে তাকে লালন করতে হয়সুখ সোনার হরিণ নয়আমি সুখী দু:খ আমায় ছোঁয় নাএরকম প্রত্যয়ী ভাবনায় জীবণ সাজাতে পারলেই সুখ নামক পাখিটি বাস করবে প্রতিটি জীবণেআমার আজকের সকালের নিস্তরঙ্গতায় তাই সুখের শান্তিধারা বইছেআসুন, আমরা সুখ পাখিটাকে মনের খাঁচায় বন্দী করে তাকে লালন করি আমৃতু্য

"...আজি বহিতেছে
প্রাণে মোর শান্তিধারামনে হইতেছে
সুখ অতি সহজ সরল, কাননের
প্রস্ফুট ফুলের মতো, শিশু-আননের
হাসির মতন, পরিব্যাপ্ত, বিকশিত,
উন্মুখ অধরে ধরি চুম্বন-অমৃত
চেয়ে আছে সকলের পানে বাক্যহীন
শৈশববিশ্বাসে চিররাএি চিরদিন
বিশ্ববীণা হতে উঠি গানের মতন
রেখেছে নিমগ্ন করি নিথর গগন
সে সংগীত কী ছন্দে গাঁথিব! কি করিয়া
শুনাইব, কী সহজ ভাষায় ধরিয়া
দিব তারে উপহার ভালোবাসি যারে,
রেখে দিব ফুটাইয়া কী হাসি-আকারে
নয়নে অধরে, কী প্রেমে জীবনে তারে
করিব বিকাশ! সহজ আনন্দখানি
কেমনে সহজে তারে তুলে ঘরে আনি
প্রফুল্ল সরস! কঠিন-আগ্রহ-ভরে
ধরি তারে প্রাণপণে-মুঠির ভিতরে
টুটি যায়! হেরি তারে তীব্রগতি ধাই_
অন্ধবেগে বহুদূরে লঙ্ঘি চলি যাই,
আর তার না পাই উদ্দেশ\
চারি দিকে
দেখে অজি পূর্ণপ্রাণে মুগ্ধ অনিমিখে
এই স্তব্ধ নীলাম্বর, স্থির শান্ত জল_
মনে হল, সুখ অতি সহজ সরল\

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

ব্লগিং অনেক দিনের... কমিউনিটি ব্লগে সামহোয়ারইনব্লগেও দেখতে দেখতে অনেকটা সময় পেরিয়ে ফেল্লাম... অনেক ব্লগ পড়া হয় ... সব লেখা যে ভালো লাগে তা নয়.. কিছু কিছু লেখা মনে হয় অন্যদের সাথে শেয়ার করি...
আজ শেয়ার কর্লাম পাললিক মনের শবে-বরাত নিয়ে একটা লেখা...

হালুয়া রুটির শবে-বরাত, শিকেয় তোলা আল-কুরআন ও Customize ইসলাম চর্চা

শপথের কান্ডারী, সুশীলতার কাবাগৃহ প্রথমালো পত্রিকার গত মঙ্গলবারের নকশা পাতা পুরোটাই ভর্তি করা হয় শবে-বরাতের হালুয়া ও নানাবিধ রেসিপি দিয়ে! বোধ করি অন্যান্য পত্র-পত্রিকার কথিত ধাঁচের পাতাও খালি থাকবেনা। আর রেসিপি দেয়ার মহান দায়িত্ব দিয়ে তো কাগজওয়ালারা খালাস! মাল মসলা দেবে কে? কেন- অগোরা, নন্দন, পিকিউএস, সপ্ন সবাই তো এরই মধ্য ঢাকঢোল পিটিয়ে তেল, আটা, ময়দা, গোস্ত, সুজিতে শবে বরাতের মহান পবিত্রতায় (!) গদগদ হয়ে বিরাট মূল্যহ্রাস! খাও বাংগালী খাও। হালুয়া রুটি গোস্ত ভূনা খেয়ে কোকাকোলার ঢেকুর তুলে জপতে থাক- শবে বরাত, ইল্লাল্লাহ্‌! ইহকাল পরকালে ঠেকায় কে?

শিশুবেলা থেকেই ইসলাম ধর্মের মৌলিক নীতি সমূহের চেয়ে আধা, সিকি বা পুরা ভুয়া নানান 'ভাল' কাজের উৎপাতে প্রাণ ওস্ঠাগত। হিজরী শাবা'ন মাসের এদিনে মা, চাচী, দাদীকে দেখেছি বেশ কিছু রসম নিয়ে দৌড় ঝাপঁ। মুরগী জবাই, রুটি বানানো এর মধ্য অন্যতম। জিজ্ঞাসু মন এটা কেন? ওটা কেন? বলে জননী কে ঘ্যানর ঘ্যানর করলে জবাব এদিনে আল্লাহ রিজিক বরাদ্ধ করেন। তাই ভাল ভাল খাবার। তা না হলে সারা বছর ছাইপাশ খেতে হতে পারে!

মাগরিবের পরপরই স্থানীয় মসজিদে ওয়াজের জোয়ার। অন্তত: রাত ১২ টা অবধি এলাকাবাসীর উপর শব্দ জুলুম। তারপর ব্যাপক কোরাস সমেত মিলাদ। ইয়া নবী সালামালাইকা..। অত:পর জিলাপী বিতরন। জনতার মূলস্রোত এতেই হাঁফিয়ে যায়। দীর্ঘক্ষন অযু চেপে রাখা থেকে নিস্কৃতি পেয়ে মনের আনন্দে পেটের বায়ুমন্ডল হালকা করতে করতে বাটিতে গমন। বোধগম্য অবোধগম্য নানাবিধ ধর্মীয় উপাখ্যান, আরবী ফারসি শে'রের নর্তন কুর্দন শেষে কাঠমোল্লার মাইক থেমে আসলে নিদ্রাহত জীবমন্ডলের স্বস্তি প্রকাশ।

শেষরাতে নিকটবর্তী আসমানে স্রস্টার গণ-ক্ষমা ডাকে সাড়া দেয়ার মত জাগ্রত মুসলিমের সংখ্যা খুবই সীমিত। যারা থাকতেন তাদের মধ্যেও পরবর্তী ২/৪/১০/২০ বছরেও উল্লেখযোগ্য মাত্রায় 'খাছলত' বদলের কোন নমুনা দেখিনি!
তবে ম্যালা বদলেছে বরাতের রাতের বরাত। বেনিয়া দিবস সংস্কৃতির কবলে পড়েছে বেচারা রাতটি। পাঁড় ধর্মবিচ্যুত পত্রিক বা টিভি চ্যানেলও ২/৪ টা প্রবন্ধ, ৩ খানা টক-শো এমনকি ক্যালিওগ্রাফি যুক্ত লোগো প্রদর্শন করছেন ব্যাপক পবিত্রতা ও ভাবগাম্ভীর্য সহকারে। চট্টগ্রাম ও সিলেটিরা রাতভর দৌড়াচ্ছেন বদনা শাহ, চৌকি শাহ, হুক্কা শাহ সহ নাম জানা বা অজানা শাহ বাবাদের দরবারে! পিছিয়ে নেই বিএনপি, আলীগ সহ প্রকৃত হালুয়া রুটি কেন্দ্রীক দলগুলো। কাঙালী ভোজ, মিলাদ শরীফ...। তবে গোফেঁ তা দিচ্ছে সুপারস্টোর গুলো। হৈ হৈ রৈ রৈ করে এ বাবদ বেচা বাট্টাটা বাড়িয়ে নিচ্ছেন। অধ:পতিত আরেকদল আতশবাজি পোড়াচ্ছে। সাকুল্যে এ..ই... আমাদের শবেবরাত!

বড্ড বেকায়দায় মহানজীবন ব্যবস্থা ইসলাম। কাজের বুয়া বা ড্রাইভারদের সমান নিয়ন্ত্রনে নিমজ্জিত। পরিমানমত ও প্রয়োজনমত এবং সুবিধামত একটুখানি ইসলাম চর্চা করে তৃপ্তির ঢেকুর তুলছে সিংহভাগ মুসলিম। পবিত্রগ্রন্থ কুরআন শিকেয় তোলা আছে ১ বা ২ পিস। বিশেষ ক্ষনে, লগনে তা নামানো হয়। বিশেষ করে কেউ বিয়োগ হলে। ব্যান্ড, নর্তকী, বিবাহসজ্জার দলের মত ভাড়ায় মোল্লার দল পাওয়া যাচ্ছে। ইংগিত করলেই সদলবলে এসে কোরান খতম কাম মৌলুদ শরীফের প্যাকেজ সার্ভিস হোম ডেলিভারী। রেটও বেশী না গ্রামে ১০ জনের দল হলে মাথাপিছু ৫০ টাকা, শহরে ১০০ বা আরও! গৃহকর্তার ও বিগত মহাজনের সকল মুসকিল আসান! ন্যাপথালিন, আগরবাতি, আতরের গন্ধ শুকোতে না শুকোতেই চোরাকারবার, ঘুষ, দখল, লুট, প্রতারণা...।

পিছিয়ে নেই পাঁড় ধার্মিক দাবিদাররাও। তথাকথিত ইসলামি চিন্তাবিদরা। বাছাইকৃত আয়াতের চটি বেরিয়েছে। এমনকি খন্ডিত আয়াত। নিজেদের বক্তৃতার মাঝখানে একটুখানি বসিয়ে দিলেই পগারপার। বা! বা! বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া তরুনের মাঝে আল কোরানের এমন আলো! ঘরে ঘরে উহা জ্বালাতে হবে! জন্ম হচ্ছে ক্ষীনদৃস্টি সম্পন্ন আরেকদল দলান্ধ।
তবে প্রায়ান্ধ সদ্যজাত তথাকথিত জেহাদী জজবা থেকে এটা ঢের ভাল। নির্বিচারে নিরীহ প্রানে অকারনে বোমাহামলা করে, ফতোয়ার ফ না বুঝেই ঢিলা কুলুখ মেরে, বিক্ষিপ্ত বিচ্ছিন্ন হৈ হট্টগোল কারী ভোদাই গুলোও রেফারেন্স দিয়ে বসছে শক্রকে কতল কর। মহাবিপদ!

এসবের ফাঁদেই পড়েছে লাইলাতুল বারাআ'ত। আসলে মহান স্রস্টার সান্নিধ্য আসার যেমন রয়েছে কতগুলো মৌলিক শর্ত, আর তেমন রয়েছে কিছু স্পেশাল মোমেন্ট। হালাল জীবিকা তেমন ১টি কঠিন শর্ত। আর প্রত্যেকটি রাতেরই শেষ ভাগ তেমন ১টি মূহুর্ত। প্রশান্ত প্রকৃতি, নিস্তব্ধ ভূমন্ডল, আবছা আলোকের মাঝে নি:সঙ্গ একেকজন মানুষের সাথে তাদের স্রস্টা, রিজিকদাতার একান্ত আলাপের সময়। ৩৫৪ রাতের মধ্য এ রাত যদি আরো মহিমামন্বিত হয়, হোক। আরো ভাল।

পাপিস্ঠ মানবমন্ডলীর বর্ধিত সুযোগ। এটার সাথে হালুয়া, বিজ্ঞাপন, ম্যারাথন ওয়াজের কি সম্পর্ক?

এ এক নিভৃত সময়। মহা-গুরুত্বপুর্ন! হৈ চৈ এর নয়।

সংগৃহীত : পাললিক মন

স্টিভ জবস আমার খুব প্রিয় একজন মানুষ। ২০০৫ সালে তিনি স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন বক্তা হিসেবে আমন্ত্রিত হন। সেখানে দেওয়া তাঁর বক্তৃতাটি ছিলো অসাধারণ একটি বক্তৃতা। সত্যি কথা বলতে কি এটা আমার জীবনে শোনা/পড়া সেরা বক্তৃত। দুর্ভাগ্যক্রমে অনুবাদের পর এর আবেগ অনেকটাই হারিয়ে গিয়েছে! তবুও অনুবাদ করার লোভ সামলাতে পারলাম না। মূল ইংরেজী বক্তৃতাটি পাওয়া যাবে এখানেঃ http://news-service.stanford.edu/news/2005/june15/jobs-061505.html




ভালোবাসার কাজটি খুঁজে নিতে হবে
======================

পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে আসতে পেরে আমি খুবই সম্মানিত বোধ করছি। আমি কখনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করিনি। সত্যি কথা বলতে কি, আজকেই আমি কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠান সবচেয়ে কাছ থেকে দেখছি। আজ আমি তোমাদেরকে আমার জীবনের তিনটি গল্প বলবো। তেমন আহামরী কিছু না। শুধু তিনটা গল্প।

প্রথম গল্পটি কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা এক সূতোয় বাঁধা নিয়ে (connecting the dots)।

রিড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবার ছয় মাসের মাথায় আমি মোটামুটি পড়ালেখা ছেড়ে দিই। অবশ্য পুরোপুরি বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে দওয়ার আগে প্রায় বছর দেড়েক এটা সেটা কোর্স নিয়ে কোনমতে লেগেছিলাম। তো কেনো আমি বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে দিয়েছিলাম?

ঘটনার শুরু আমার জন্মের আগে থেকে। আমার আসল মা ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অবিবাহিতা তরুণী গ্রাজুয়েট ছাত্রী। আমার জন্মের আগে তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন আমাকে কারো কাছে দত্তক দিবেন। মা খুব চাচ্ছিলেন আমাকে যারা দত্তক নিবেন তাদের যাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রী থাকে। তো একজন আইনজীবি এবং তাঁর স্ত্রী আমাকে দত্তক নেওয়ার জন্য রাজি হলো। কিন্তু আমার জন্মের পর তাঁদের মনে হলো তাঁরা আসলে একটা কন্যা শিশু চাচ্ছিলেন।

অতএব আমার বর্তমান বাবা-মা, যারা অপেক্ষমাণ তালিকাতে ছিলেন, গভীর রাতে একটা ফোন পেলেন - "আমাদের একটা অপ্রত্যাশিত ছেলে শিশু আছে, আপনারা ওকে নিতে চান?" "অবশ্যই!" - আমার বাবা-মা'র তড়িৎ উত্তর। আমার আসল মা পরে জানতে পেরেছিলেন যে আমার নতুন মা কখনো বিশ্ববিদ্যালয় আর নতুন বাবা কখনো হাই স্কুলের গন্ডি পেরোননি। তিনি দত্তক নেবার কাগজপত্র সই করতে রাজী হননি। কয়েক মাস পরে অবশ্য তিনি রাজী হয়েছিলেন, আমার নতুন বাবা-মা এই প্রতিজ্ঞা করার পর যে তারা একদিন আমাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াবেন।

১৭ বছর পর আমি সত্যি সত্যি বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু আমি বোকার মতো প্রায় স্ট্যানফোর্ডের সমান খরচের একটা বিশ্ববিদ্যালয় বেছে নিয়েছিলাম। এবং আমার নিম্ন মধ্যবিত্ত পিতামাতার সব জমানো টাকা আমার পড়ালেখার খরচের পেছনে চলে যাচ্ছিলো। ছয় মাস এভাবে যাওয়ার পর আমি এর কোন মানে খুঁজে পাচ্ছিলাম না। জীবনে কী করতে চাই সে ব্যাপারে আমার তখনো কোন ধারণা ছিলোনা, এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ালেখা এ ব্যাপারে কিভাবে সাহায্য করবে সেটাও আমি বুঝতে পারছিলাম না। অথচ আমি আমার বাব-মা'র সারা জীবনের জমানো সব টাকা এর পেছনে দিয়ে দিচ্ছিলাম। তাই আমি বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে দেবার সিদ্ধান্ত নিলাম এবং আশা করলাম যে সবকিছু আস্তে আস্তে ঠিক হয়ে যাবে। ওই সময়ের প্রেক্ষিতে এটা একটা ভয়াবহ সিদ্ধান্ত মনে হতে পারে, কিন্তু এখন পেছন ফিরে তাকালে মনে হয় এটা আমার জীবনের অন্যতম সেরা সিদ্ধান্ত ছিলো। যেই মুহুর্তে আমি বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে দিলাম সেই মুহুর্ত থেকে আমি আমার অপছন্দের অথচ ডিগ্রীর জন্য দরকারী কোর্সগুলো নেওয়া বন্ধ করে দিতে পারলাম, এবং আমার পছন্দের কোর্সগুলো নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়ে গেলো।

অবশ্য ব্যাপারটি অতোটা সুখকর ছিলোনা। ছাত্রহলে আমার কোন রুম ছিলোনা, তাই আমি আমার বন্ধুদের রুমে ফ্লোরে ঘুমাতাম। ব্যবহৃত কোকের বোতল ফেরত দিয়ে আমি পাঁচ সেন্ট করে পেতাম (প্রতি বোতল) যেটা দিয়ে আমি আমার খাবার কিনতাম। প্রতি রবিবার আমি সাত মাইল হেঁটে শহরের অপর প্রান্তে অবস্থিত হরে কৃষ্ণ মন্দিরে যেতাম শুধুমাত্র একবেলা ভালো খাবার খাওয়ার জন্য। কিন্তু আমি এটাকে পছন্দ করতাম। আমার কৌতুহল এবং ইনটুইশন অনুসরণ করে আমার জীবনে আমি যতোকিছু করেছি পরবর্তীতে সেটাই আমার কাছে মহামূল্যবান হিসেবে প্রতীয়মান হয়েছে। একটা উদাহরণ দিইঃ

সেই সময় রীড কলেজ সম্ভবত দেশের সেরা ক্যালিগ্রাফী কোর্সগুলো করাতো। ক্যাম্পাসের প্রত্যেকটি পোস্টার, প্রতিটি লেবেল করা হতো হাতে করা ক্যালিগ্রাফী দিয়ে। যেহেতু আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলাম না, তাই আমি যেকোনো কোর্স নিতে পারতাম। তাই ভাবলাম ক্যালিগ্রাফী কোর্স নিয়ে ক্যালিগ্রাফী শিখবো। আমি সেরিফ এবং স্যান সেরিফ টাইপফেইস শিখলাম, বিভিন্ন অক্ষরের মধ্যে স্পেস কমানো বাড়ানো শিখলাম, ভালো টাইপোগ্রাফী কিভাবে করতে হয় সেটা শিখলাম। ব্যাপারটা ছিলো দারুণ সুন্দর, ঐতিহাসিক, বিজ্ঞানের ধরাছোঁয়ার বাইরের একটা আর্ট। এবং এটা আমাকে বেশ আকর্ষণ করতো।

এই ক্যালিগ্রাফী জিনিসটা কখনো কোনো কাজে আসবে এটা আমি কখনো ভাবিনি। কিন্তু, দশ বছর পর যখন আমরা আমাদের প্রথম ম্যাকিন্টস কম্পিউটার ডিজাইন করি তখন এর পুরো ব্যাপারটাই আমাদের কাজে লেগেছিলো। ম্যাক কম্পিটার টাইপোগ্রাফী সমৃদ্ধ প্রথম কম্পিটার। আমি যদি দশ বছর আগে সেই ক্যালিগ্রাফী কোর্সটা না নিতাম তাহলে ম্যাক কম্পিউটারে কখনো মাল্টিপল টাইপফেইস এবং আনুপাতিক দুরত্মের ফন্ট থাকতো না। আর যেহেতু উইন্ডোজ ম্যাক এর এই ফন্ট নকল করেছে, বলা যায় কোনো কম্পিউটারেই এই ধরণের ফন্ট থাকতো না। আমি যদি বিশ্ববিদ্যালয় না ছাড়তাম তাহলে আমি কখনোই ওই ক্যালিগ্রাফী কোর্সে ভর্তি হতাম না, এবং কম্পিউটারে হয়তো কখনো এতো সুন্দর ফন্ট থাকতো না। অবশ্য বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকা অবস্থায় এই সব বিচ্ছিন্ন ঘটোনাগুলোকে এক সুতোয় বাঁধা অসম্ভব ছিলো, কিন্তু দশ বছর পর সবকিছু একেবারে পরিস্কার বোঝা গিয়েছিলো!

তুমি কখনোই ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে বিচ্ছিন্ন ঘটনাগুলোকে এক সূতায় বাঁধতে পারবেনা। এটা শুধুমাত্র পেছনে তাকিয়েই সম্ভব। অতএব, তোমাকে বিশ্বাস করতেই হবে বিচ্ছিন্ন ঘটনাগুলো একসময় একটা ভালো পরিণামের দিকে যাবে ভবিষ্যতে। তোমাকে কিছু না কিছুর উপর বিশ্বাস করতেই হবে - তোমার মন, ভাগ্য, জীবন, কর্ম, কিছু একটা। এই বিশ্বাস আমাকে কখনোই ব্যর্থ করে দেয়নি, বরং আমার জীবনের সব বড় অর্জনে বিশাল ভুমিকা রেখছে।

আমার দ্বিতীয় গল্পটি ভালোবাসা আর হারানো নিয়ে।

আমি সৌভাগ্যবান ছিলাম। আমি আমার জীবনের প্রথম দিকেই আমার ভালোবাসার কাজ খুঁজে পেয়েছিলাম। ওজ আর আমি আমার বাবা-মা'র বাড়ির গারাজে অ্যাপল কম্পানী শুরু করেছিলাম। তখন আমার বয়স ছিলো ২০ বছর।

আমরা কঠিন পরিশ্রম করেছিলাম - ১০ বছরের মাথায় অ্যাপল কম্পিউটার গারাজের ২ জনের কম্পানী থেকে ৪০০০ এম্পলয়ীর ২ বিলিয়ন ডলারের কম্পানীতে পরিণত হয়। আমার বয়স যখন ৩০ হয় তার অল্প কিছুদিন আগে আমরা আমাদের সেরা কম্পিউটার - ম্যাকিন্টস - বাজারে ছাড়ি। আর ঠিক তখনি আমার চাকরি চলে যায়। কিভাবে একজন তার নিজের প্রতিষ্ঠিত কম্পানী থেকে চাকরিচ্যুত হয়? ব্যাপারটি এমনঃ অ্যাপল যখন অনেক বড়ো হতে লাগলো তখন আমি কম্পানীটি খুব ভালোভাবে চালাতে পারবে এমন একজনকে নিয়োগ দিলাম। প্রথম বছর সবকিছু ভালোভাবেই গেলো। কিন্তু এরপর তার সাথে আমার চিন্তাভাবনার বিভাজন স্পষ্ট হওয়া শুরু হলো। এবং পরিচালনা পর্ষদ তার পক্ষ নিলো। অতএব, ৩০ বছর বয়সে আমি কম্পানী থেকে আউট হয়ে গেলাম। এবং খুব ভালোভাবে আউট হলাম। আমার সারা জীবনের স্বপ্ন এক নিমিষে আমার হাতছাড়া হয়ে গেলো। ঘটনাটা আমাকে বেশ ভেঙ্গে দিয়েছিলো।

এরপরের কয়েক মাস আমি বুঝতে পারছিলাম না আমি কী করবো। আমার মনে হচ্ছিলো আমি আগের প্রজন্মের উদ্যোগতাদের মনোবল ভেঙ্গে দিয়েছি - আমার হাতে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সেটা আমি করতে পারিনি। আমি ডেভিড প্যাকার্ড এবং বব নয়েস এর সাথে দেখা করে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাইলাম। একবার ভাবলাম ভ্যালী ছেড়ে পালিয়ে যাই। কিন্তু ধীরে ধীরে আমি একটা ব্যাপার অনুভব করতে লাগলাম - আমি আমার কাজকে এখনো ভালোবাসি! এপলের ঘটনাগুলি সেই সত্যকে এতোটুকু বদলাতে পারেনি। আমাকে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে, কিন্তু আমি এখনো আমার কাজকে ভালোবাসি। তাই আমি আবার একেবারে গোড়া থেকে শুরু করার সিদ্ধান্ত নিলাম।

প্রথমে এটা তেমন মনে হয়নি, কিন্তু পরে আবিষ্কার করলাম অ্যাপল থেকে চাকরিচ্যুত হওয়াটা ছিলো আমার জীবনের সবচেয়ে ভালো ঘটনা। সফল হবার ভার চলে যেয়ে আমি তখন নতুন করে শুরু করলাম। কোন চাপ নেই, সবকিছু সম্পর্কে আগের চেয়ে কম নিশ্চিত। ভারমুক্ত হয়ে আমি আমার জীবনের সবচেয়ে সৃজনশীল সময়ে যাত্রা শুরু করলাম।

পরবর্তী পাঁচ বছরে আমি নেক্সট এবং পিক্সার নামে দুটো কম্পানী শুরু করি, আর প্রেমে পড়ি এক অসাধারণ মেয়ের যাকে আমি পরে বিয়ে করি। পিক্সার থেকে আমরা পৃথিবীর প্রথম এনিমেশন ছবি "টয় স্টোরী" তৈরি করি। পিক্সার বর্তমানে পৃথিবীর সবচেয়ে সফল এনিমেশন স্টুডিও। এরপর ঘটে কিছু চমকপ্রদ ঘটনা। অ্যাপল নেক্সটকে কিনে নেয় এবং আমি অ্যাপলএ ফিরে আসি। এবং নেক্সটএ আমরা যে প্রযুক্তি তৈরি করি সেটা এখন অ্যাপল এর বর্তমান ব্যবসার একেবারে কেন্দ্রবিন্দুতে। অন্যদিকে লরেন আর আমি মিলে তৈরি করি একটা সুখী পরিবার।

আমি মোটামুটি নিশ্চিত এগুলোর কিছুই ঘটতো না যদি না আমি অ্যাপল থেকে চাকরিচ্যুত হতাম। এটা ছিলো খুব তেতো একটা ওষুধ আমার জন্য, কিন্তু আমার মনে হয় রোগীর সেটা দরকার ছিলো। কখনো কখনো জীবন তোমাকে মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করে। তখন বিশ্বাস হারাইওনা। আমি নিশ্চিত যে জিনিসটা আমাকে সামনে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলো সেটা হচ্ছে - আমি আমার কাজকে ভালোবাসতাম। তোমাকে অবশ্যই তোমার ভালবাসার কাজটি খুঁজে পেতে হবে। তোমার ভালোবাসার মানুষটিকে যেভাবে তোমার খুঁজে পেতে হয়, ভালোবাসার কাজটিকেও তোমার সেভাবে খুঁজে পেতে হবে। তোমার জীবনের একটা বিরাট অংশ জুড়ে থাকবে তোমার কাজ, তাই জীবন নিয়ে সন্তুস্ট হওয়ার একমাত্র উপায় হচ্ছে চমৎকার কোনো কাজ করা। আর কোনো কাজ তখনি চমৎকার হবে যখন তুমি তোমার কাজকে ভালোবাসবে। যদি এখনো তোমার ভালোবাসার কাজ খুঁজে না পাও তাহলে খুঁজতে থাকো। অন্য কোথাও স্থায়ী হয়ে যেওনা। তোমার মন আর সব জিনিসের মতোই তোমাকে জানিয়ে দিবে যখন তুমি তোমার ভালোবাসার কাজটি খুঁজে পাবে। যে কোনো সম্পর্কের মতোই, তোমার কাজটি যতো সময় যাবে ততোই ভালো লাগবে। সুতরাং খুঁজতে থাকো যতক্ষন না ভালোবাসার কাজটি পাচ্ছো। অন্য কোন কাজে স্থায়ী হয়ো না।

আমার শেষ গল্পটি মৃত্যু নিয়ে।

আমার বয়স যখন ১৭ ছিলো তখন আমি একটা উদ্ধৃতি পড়েছিলামঃ "তুমি যদি প্রতিটি দিন এটা ভেবে পার কর যে আজই তোমার জীবনের শেষ দিন, তাহলে একদিন তুমি সত্যি সঠিক হবে"। এই লাইনটা আমার মনে গভীর রেখাপাত করেছিলো, এবং সেই থেকে গতো ৩৩ বছর আমি প্রতিদিন সকালে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে জিজ্ঞেস করি - "আজ যদি আমার জীবনের শেষ দিন হতো তাহলে আমি কি যা যা করতে যাচ্ছি আজ তাই করতাম, নাকি অন্য কিছু করতাম?" যখনি এই প্রশ্নের উত্তর "না" হতো পরপর বেশ কিছু দিন, আমি জানতাম আমার কিছু একটা পরিবর্তন করতে হবে।

"আমি একদিন মরে যাবো" - এই কথাটা মাথায় রাখা আমার জীবনে আমাকে বড় বড় সব সিদ্ধান্ত নিতে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করেছে। কারণ সবকিছু - সকল আশা-প্রত্যাশা, গর্ব, ব্যর্থতার ভয় বা লজ্জা - এইসব কিছু মৃত্যুর মুখে নাই হয়ে যায়, শুধুমাত্র সত্যিকারের গুরুত্মপূর্ণ জিনিসগুলোই টিকে থাকে। তোমার কিছু হারানোর আছে এই চিন্তা দূর করার সবচেয়ে সহজ উপায় হচ্ছে এটা মনে রাখা যে একদিন তুমি মরে যাবে। তুমি নগ্ন হয়েই আছো।

অতএব নিজের মনকে না শোনার কোনো কারণই নাই।

প্রায় এক বছর আগে আমার ক্যান্সার ধরা পড়ে। সকাল ৭:৩০ এ আমার একটা স্ক্যান হয় এবং এতে পরিস্কারভাবে আমার প্যানক্রিয়াসএ একটা টিউমার দেখা যায়। আমি তখনো জানতাম না প্যানক্রিয়াস জিনিসটা কী। আমার ডাক্তাররা বললেন এই ক্যান্সার প্রায় নিশ্চিতভাবে অনারোগ্য, এবং আমার আয়ু আর তিন থেকে ছয় মাস আছে। আমার ডাক্তার আমাকে বাসায় ফিরে যেয়ে সব ঠিকঠাক করতে বললেন। সোজা কথায় মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত হওয়া।

এরমানে হচ্ছে তুমি তোমার সন্তানদের আগামী দশ বছরে যা বলবে বলে ঠিক করেছো তা আগামী কয়েক মাসের মধ্যে বলতে হবে। এরমানে হচ্ছে সবকিছু গোছগাছ করে রাখা যাতে তোমার পরিবারের সবার জন্য ব্যাপারটি যথাসম্ভব কম বেদনাদায়ক হয়। এরমানে হচ্ছে সবার থেকে বিদায় নিয়ে নেওয়া।

এভাবে সেদিন সারাদিন গেলো। সেদিন সন্ধ্যায় আমার একটা বায়োপসি হলো। তারা আমার গলার ভেতর দিয়ে একটা এন্ডোস্কোপ নামিয়ে দিলো, এরপর আমার পেটের ভেতর দিয়ে যেয়ে আমার ইনটেস্টাইন থেকে সুঁই দিয়ে কিছু কোষ নিয়ে আসলো। আমাকে অজ্ঞান করে রেখেছিলো তাই আমি কিছুই দেখিনি। কিন্তু আমার স্ত্রী পরে আমাকে বলেছিলো যে আমার ডাক্তাররা যখন এন্ডোস্কোপি থেকে পাওয়া কোষগুলি মাইক্রোস্কোপ এর নিচে রেখে পরীক্ষা করা শুরু করলো তখন তারা প্রায় কাঁদতে শুরু করেছিলো, কারণ আমার যে ধরণের প্যানক্রিয়াটিক ক্যান্সার হয়েছিলো সেটার আসলে সার্জারীর মাধ্যমে চিকিৎসা সম্ভব। আমার সেই সার্জারী হয়েছিলো এবং এখন আমি সুস্থ্য।

এটাই আমার মৃত্যুর সবচেয়ে কাছাকাছি যাওয়া, এবং আমি আশা করি আরো কয়েক দশকের জন্যও এটা তাই যেনো হয়। মৃত্যুর খুব কাছাকাছি যাওয়ার এই বাস্তব অভিজ্ঞতার কারণে মৃত্যু সম্পর্কে এখন আমি অনেক বেশি জানি, যেটা আমি জানতাম না যদি না এই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে না যেতামঃ

কেউই মরতে চায় না। এমনকি যারা বেহেশতে যেতে চায়, তারাও সেখানে যাওয়ার জন্য তাড়াতাড়ি মরে যেতে চায় না। কিন্তু এরপরও মৃত্যুই আমাদের সবার গন্তব্য। কেউই কখনো এটা থেকে পালাতে পারেনি। এবং সেটাই হওয়া উচিৎ, কারণ মৃত্যু সম্ভবত জীবনের সবচেয়ে বড় আবিস্কার। এটা জীবনের পরিবর্তনের এজেন্ট। মৃত্যু পুরনোকে ধুয়ে মুছে নতুনের জন্য জায়গা করে দেয়। এই মুহুর্তে তোমরা হচ্ছো নতুন, কিন্তু খুব বেশিদিন দূরে নয় যেদিন তোমরা পুরনো হয়ে যাবে এবং তোমাদেরও ধুয়ে মুছে ফেলা হবে। নাটকীয়ভাবে বলার জন্য দুঃখিত, কিন্তু এটা খুবই সত্যি।

তোমাদের সময় সীমিত, অতএব, অন্য কারো জীবন যাপন করে সময় নষ্ট করো না। কোনো মতবাদের ফাঁদে পড়ো না, অর্থ্যাৎ অন্য কারো চিন্তা-ভাবনা দিয়ে নিজের জীবন চালিয়ো না। তোমার নিজের ভেতরের কন্ঠকে অন্যদের চিন্তা-ভাবনার কাছে আটকাতে দিও না। আর সবচেয়ে বড় কথাঃ নিজের মন আর ইনটুইশন এর কথা শোনার সাহস রাখবে। ওরা ঠিকই জানে তুমি আসলে কি হতে চাও। বাকী সব কিছু ততোটা গুরুত্মপূর্ণ নয়।

আমি যখন তরুণ ছিলাম তখন একটা পত্রিকা বের হতো যার নাম ছিলো "The Whole Earth Catalog" (সারা পৃথিবীর ক্যাটালগ). এটা ছিলো আমার প্রজন্মের একটা বাইবেল। এটা বের করেছিলেন স্টুয়ার্ড ব্র্যান্ড নামে এক ভদ্রলোক যিনি মেনলো পার্কের কাছেই থাকতেন। তিনি পত্রিকাটিকে কাব্যময়তা দিয়ে জীবন্ত করে তুলেছিলেন। এটা ছিলো ষাট এর দশকের শেষ দিককার কথা - কম্পিউটার এবং ডেস্কটপ পাবলিশিং তখনো শুরু হয়নি। তাই পত্রিকাটি বানানো হতো টাইপরাইটার, কাঁচি, এবং পোলারয়েড ক্যামেরা দিয়ে। পত্রিকাটিকে ৩৫ বছর আগের পেপারব্যাক গুগল বলা যায়ঃ অনেক তত্ত্ব-তথ্যে সমৃদ্ধ আর মহৎ উদ্দেশ্যে নিবেদিত।

স্টুয়ার্ট এবং তার টিম পত্রিকাটির অনেকগুলি সংখ্যা বের করেছিলো। পত্রিকাটির জীবন শেষ হয় একটা সমাপ্তি সংখ্যা দিয়ে। এটা ছিলো সত্তর এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে, আমার বয়স ছিলো তোমাদের বয়সের কাছাকাছি। সমাপ্তি সংখ্যার শেষ পাতায় একটা ভোরের ছবি ছিলো। তার নিচে ছিলো এই কথাগুলিঃ "ক্ষুধার্ত থেকো, বোকা থেকো"। এটা ছিলো তাদের বিদায় বার্তা। ক্ষুধার্ত থেকো। বোকা থেকো। এবং আমি নিজেও সবসময় এটা মেনে চলার চেষ্টা করে এসেছি। এবং আজ তোমরা যখন পাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের গন্ডি ছেড়ে আরো বড় জীবনের গন্ডিতে প্রবেশ করছো, আমি তোমাদেরকেও এটা মেনে চলার আহবান জানাচ্ছি।

ক্ষুধার্ত থেকো। বোকা থেকো।

সবাইকে ধন্যবাদ।

অনুবাদ ::
বিলাশ বিডি

আজি আষাঢ়ে -মন আমার ঝর ঝর বাজে...........



আষাঢ় গগনে

দেবীপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়

আষাঢ় গগনে আজ
ভাসে মেঘদূত রাজ

আকাশে ঘনায় আঁধার,
পড়ে জল ঝিমঝিম ,
রিমঝিম জুঁই ঝরে

নেই ওই নিঠুর খরা,
ঝরে পড়ে অবিরাম ধারা
হয়েছে হৃদয় তৃপ্তিভরা,
মেঘেরা পেয়েছে ছাড়া

আবার আকাশে ঘনায় কালো,
উতল হল মন ,
সূর্য্য কোথা লুকালো

বহে ওই বহ্নি সমীরণ ,
ঝরে আজ মাটিতে বকুল,
হৃদয় হল আকুল

বর্ষায় কুহরিত হল ধ্বনি
ওড়ে ওই যত শালিখ ,
ডাকে বাগে ওই কোকিল,
মাতল সে আনন্দে , আনন্দে

৯ এপ্রিল ২০০৮

আজ পহেলা আষাঢ়

আজি আষাঢ়ে-
গাছে ফুটেছে কদম ফুল
ময়ুর মেলেছে পেখম
রিমঝিম বুষ্টিতে
চারিধার অথৈ থৈ থৈ

আজি আষাঢ়ে-
সবুজের প্রান্তরে রুপ-রঙের
লাগিয়াছে মেলা

আজি আষাঢ়ে-
মন আমার ঝর ঝর বাজে...........

"আবার এসেছে আষাঢ় আকাশ ছেয়ে,
আসে বৃস্টির সুবাস বাতাস বেয়ে
এই পুরাতন হৃদয় আমার আজি পুলকে দুলিয়া উঠিছে আবার বাজি
নুতন মেঘের ঘনিমার পানে চেয়ে..."


আষাঢ়

নীল নবঘনে আষাঢ়গগনে তিল ঠাঁই আর নাহি রে
ওগো, আজ তোরা যাস নে ঘরের বাহিরে
বাদলের ধারা ঝরে ঝরঝর,
আউশের ক্ষেত জলে ভরভর,
কালি-মাখা মেঘে ও পারে আঁধার ঘনিছে দেখ্ চাহি রে
ওগো, আজ তোরা যাস নে ঘরের বাহিরে।।

ওই ডাকে শোনো ধেনু ঘনঘন, ধবলীরে আনো গোহালে
এখনি আঁধার হবে বেলাটুকু পোহালে
দুয়ারে দাঁড়ায়ে ওগো দেখ্ দেখি
মাঠে গেছে যারা তারা ফিরিছে কি,
রাখালবালক কী জানি কোথায় সারা দিন আজি খোয়ালে
এখনি আঁধার হবে বেলাটুকু পোহালে।।

শোনো শোনো ওই পারে যাবে বলে কে ডাকিছে বুঝি মাঝিরে
খেয়া-পারাপার বন্ধ হয়েছে আজি রে
পুবে হাওয়া বয়, কূলে নেই কেউ,
দু কূল বাহিয়া উঠে পড়ে ঢেউ,
দরদর বেগে জলে পড়ি জল ছলছল উঠে বাজি রে
খেয়া-পারাপার বন্ধ হয়েছে আজি রে।।

ওগো, আজ তোরা যাস নে গো, তোরা যাসনে ঘরের বাহিরে
আকাশ আঁধার, বেলা বেশি আর নাহি রে
ঝরঝর ধারে ভিজিবে নিচোল,
ঘাটে যেতে পথ হয়েছে পিছল,
ওই বেণুবন দুলে ঘনঘন পথপাশে দেখ্ চাহি রে
ওগো, আজ তোরা যাস নে ঘরের বাহিরে।।

- কবিগুরু, শিলাইদহ
২০ জ্যৈষ্ঠ, ১৩০৭


আজ আষাঢ়ের প্রথম দিনঝর ঝর করে অঝোরে ঝরে বর্ষা এলো

বর্ষার এক পশলা বৃস্টিকে জানালায় হাত বাড়িয়ে স্পর্শ করতে করতে অথবা টিনের চালে অনবরত বর্ষণের গুঞ্জনে কান পেতে ছন্দ খুঁজতে খুঁজতে জীবন ও প্রকৃতি মিশে যায় চলমান সময়ের হাত ধরেবর্ষা আনে সবুজআনে প্রাণআনে ফসলআনে ধ্বংসআনে তান্ডবতারপর একসময়ের বর্ষায় থমকে যাওয়া মানুষগুলোর প্লাবিত জীবনধারা আবারও ঘুরে দাঁড়ায় নতুন সৃস্টির প্রতিজ্ঞায়আবার নতুন করে গড়ে উঠে জনপদবর্ষা আমাদের মানুষগুলোকে বেপরোয়া করে তোলে, তাদের জীবন সংগ্রামে যোগ করে সৃস্টিশীলতা, নিয়ে আসে নতুন প্রাণের উদ্দীপনা এভাবেই চলছে চিরায়ত বাংলার বর্ষাবরণপ্রকৃতির সাথে পাল্লা দিয়ে এগিয়ে চলে আমাদের জীবনএখানেই আনন্দ, এখানে সাফল্যবর্ষাকে দু' হাত বাড়িয়ে বরণ করতে গিয়ে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কন্ঠে বেজে উঠে:

"আবার এসেছে আষাঢ় আকাশ ছেয়ে,
আসে বৃস্টির সুবাস বাতাস বেয়ে
এই পুরাতন হৃদয় আমার আজি পুলকে দুলিয়া উঠিছে আবার বাজি
নুতন মেঘের ঘনিমার পানে চেয়ে..."

১৮৫২ সালের দিকে যুক্তরাষ্ট্রের সরকার নবাগত জনসমষ্টির স্থান সংকুলানের জন্য ইন্ডিয়ানদের কাছ থেকে জমি কিনতে চেয়ে চিঠি দেন। উত্তরে সর্দার সিয়াটল যে চিঠি লিখেছিলেন তা নিচে দেয়া হলো-

" ওয়াশিংটন থেকে প্রেসিডেন্ট সাহেব জানিয়েছেন যে তিনি আমাদের জমিজিরাত কিনতে চান। কিন্তু আকাশ কি কেনাবেচা করা যায়? যায় জমি কেনাবেচা করা? আমাদের কাছে এই ধারনা খুব অদ্ভূত মনে হচ্ছে। বাতাসের সজীবতা, জলের স্বচ্ছতা তো আমাদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। তাহলে? কী করে কিনবেন তাদের?

" এই ধরিত্রীর ধূলিকনা আমার লোকদের কাছে পবিত্র। প্রতিটি পাইন গাছের পাতা, প্রতিটি বালুকণা, ঘনান্ধকার অরণ্যের প্রতিটি শিশিরকণা, প্রতিটি মাঠ, প্রতিটি গুন্জরিত পতঙ্গ। আমার লোকেদের স্মৃতি ও অভিজ্ঞতায় এরা সবাই খুব পবিত্র।

" গাছ রস টেনে নেয় গোপন পথে-আমরা তা জানি, যেমন জানি রক্ত আমাদের ধমনী বেয়ে চলে। আমরা এই ভূলোকের অংশ যেমন এই ভূলোক আমাদের অংশ। সুরভিত ফুলেরা আমাদের বোন। ভালুক, হরিণ, রাজকীয় ঈগল-এরা সবাই আমাদের সহোদর ভাই। পাহাড়ের চূড়া, সবুজ প্রান্তরের রস, ঘোড়ার শরীরের ওম, আর মানুষ সবাই আমরা একই পরিবারের সদস্য।

" ঝরণায়, নদীতে স্ফটিক-স্কচ্ছ যে জল গড়িয়ে যায় সে তো নেহায়েত জল নয়, আমাদের প্রপিতাদের দেহের স্বেদ, রক্ত। আমরা যদি আপনাকে জমি বিক্রি করি তো অবশ্যই স্মরণ রাখবেন যে জমিটা পবিত্র। ঝিলের স্বচ্ছ জলে অলৌকিক ছায়া পড়ে। তার প্রতিটিতে আমাদের লোকদের জীবনের স্মৃতি আর ঘটনা বিম্বিত হয়। বনের মর্মরধ্বনিতে আমি আমার পিতামহের ডাক শুনতে পাই।

" নদীরা আমাদের ভাই। তাদের জলে আমাদের তৃষ্ণা মেটে। ওরা আমাদের নৌকা বয়ে নেয়, আমাদের সন্তানদের মুখের গ্রাস জোগায়। অতএব, আপনি অবশ্যই নদীকে সেই রকম দয়াদাক্ষিণ্য করবেন যেমনটি করবেন আপনার ভাইকে।

" আমরা যদি জমি বিক্রি করি তো মনে রাখবেন যে সেই জমির ওপর প্রবাহিত বাতাস আমাদের কাছে অত্যন্ত মূল্যবান। হাওয়া তার উদ্যমের অংশ দান করে তার সমস্ত পোষাকে। হাওয়া যেমন প্রথম ফুৎকারে আমাদের প্রপিতামহদের ফুসফুসে দিয়েছে দম, তেমনি গ্রহন করেছে তার অন্তিম শ্বাসবায়ুও। আমাদের শিশুদেরও বাতাস দেয় জীবনের উদ্যম। অতএব আপনাকে জমি বিক্রি করলে আপনি অবশ্যই সেই জমি বিশেষ যত্ন করে রাখবেন যেন সেখানে লোকে মাঠের ফুলের মিষ্টি ঘ্রাণ পাওয়ার লোভে সমবেত হয়।

" আমাদের সন্ততিদের আমরা যা শিখিয়েছি, আপনারাও কি আপনাদের সন্ততিদের তা-ই শেখাবেন? আমরা শিখিয়েছি এই ধরনী আমাদের মা। এই ধরনীর কিছু হলে এর সন্তানদের সবার তা হবে।

" আমরা এটুকু জানি: মাটি মানুষের নয়, বরং মানুষই মাটির। রক্ত যেমন আমাদের একত্রে বেঁধেছে, তেমনি সমস্ত জিনিসও পরস্পরে বাঁধা। জীবনের জাল মানুষ বয়ন করেনি। সেতো জালে কেবল বাঁধা। এই জালের ক্ষতি মানে তার নিজেই ক্ষতি।

" আপনাদের ভবিষ্যৎ আমাদের কাছে রহস্যজনক মনে হয়। গরু-ঘোড়া সব জবাই করলে কি হবে অবস্থাটা? বুনো ঘোড়া ফোষ মানিয়ে চালাবেন? অরণ্যের গোপন জায়গাগুলো যখন মানুষের ঘামের গন্ধে উঠবে ভরে, এবং উচুঁ পাহাড়ের চুড়া আলাপি তারের আড়ালে পড়বে ঢাকা, তখন কি হবে? ঝোপঝাড়, বন বাদাড় যাবে কোথায়? উধাও উধাও। আর ক্ষিপ্রগতি টাট্ট্ুঘোড়া আর শিকারকে অকালে বিদায় জানাতে হলে কেমন হয় ব্যাপারটা? তখন ফুটে উঠবে জীবনের অন্তিম দশা এবং শুরু হবে ধুঁকে ধুঁকে জীবন পথে চলা।

" যখন একেবারে শেষ মানুষটিও তার নিধুয়া দিগন্তে পাড়ে হাওয়া হয়ে গেছে, এবং তার স্মৃতি কেবল ভাসমান মেঘের মতো প্রেইরির পাথারে থেকে থেকে ছায়াসম্পাত করে বেড়াচ্ছে, তখনো কি এই সমুদ্রতট, এই অরণ্যরাজি থাকবে, যেমন আজো আছে? তখনো কি আমার লোকেদের আত্না মিশে থাকবে এদের আনাচে কানাচে?

" নবজাতক যেমন তার মায়ের হ্দস্পন্দন ভালোবাসে, তেমনি আমরা ভালোবাসি এই পৃথিবীটাকে। অতএব আমরা জমি বিক্রি করলে আপনিও একে আমাদের মতোই ভালোবাসবেন। আমরা এর যেমন যত্ন নিয়েছি, আপনাকেও সে রকম যত্ন নিতে বলি। জমি সম্প্রাদনের অবিকল স্মৃতি মনে ধরে রাখুন। সমস্ত সন্তানের জন্য জমি রক্ষা করুন, জমিকে ভালোবাসুন যেমন ঈশ্বর আমাদের ভালোবাসেন।

" আমরা যেহেতু সবাই ভূমির অংশ, সে জন্য আপনিও এর অংশ। জমি আমাদের কাছে মূল্যবান, তেমনি আপনার কাছেও। একটা বিষয়ে আমরা নিশ্চিত: ঈশ্বর এক। মানুষ-সে লালই হোক আর সাদাই হোক, কখনো সে অন্য থেকে বিচ্ছিন্ন থাকতে পারে না; হাজার হলেও আমরা তো পরস্পর ভাই।

উৎস:
জোসেফ ক্যাম্পবেলের মিথচিন্তা
ভাষান্তর: খালিকুজ্জামান ইলিয়াস

মূল পোস্ট

মা তোমার জন্য ভালবাসা :: প্রতিদিন





মা দিবসে মায়ের জন্য প্রাতরাশ বানাতে গিয়ে ২ শিশু তাদের রান্না ঘড়ে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে।

ঠিক সকালের দিকে মা বিছানায় থাকা অবস্থায় একটা শব্দে জেগে উঠ'ল... শব্দের উৎপত্তি স্থল ছিল কিচেন... যেখান তার দুই সন্তান প্রাতরাশের আয়োজনে ব্যস্ত মায়ের অগোচরেই... মা দিবসে মাকে আসলে আজকে সারপ্রাইজ করার জন্য তাদের একটা প্লান ছিল এটা। ঘটনাটি ছিল অস্ট্রেলিয়ার Lower Templestowe এ।

ঘটনাটা ঘটেছিল যেভাবে... বাচ্চারা ফ্লাশ পেনে ব্রেকফাস্ট বানাতে ছিল ... হঠাৎ ফ্লাশ পেনের উপর আগুন উঠে যায়.. যেখান থেকে আগুন ছড়ায় কাপবোর্ডে... মায়ের কান হয়ে দ্রুত আগুনের সংবাদ অগ্নি নির্বাপক দলের কাছে পৌঁছায়। দ্রুত ঘটনাস্থলে অগ্নি নির্বাপক দল ঘটনস্থলে পৌঁছলে আগুন নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়। বাবা অগ্নিদগ্ধ হয় এবং মেয়েরা ধোয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে অসুস্থ হয়ে পরে। বাবা এবং তাদের দু'সন্তান এখন হসপিটালাইজড।


সংবাদটা পড়েই ভাল লাগল একটা জায়গায় ... মায়ের জন্য ভালবাসা। মায়ের প্রতিদিনের কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘবের আপ্রাণ চেষ্টা ছিল এই দিনটাতে ... যেখানে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে এমন কোন চিন্তা ওই ছোট্ট শিশু দুটার মাথায় ছিল না। দুই সন্তান তার মাকে একটা সারপ্রাইজ দেয়ার জন্য কিচেনে ঢুকে প্রাতরাশ তৈরি করছে... মা ঘুম থেকে জাগলে তার বেডের সামনে নিয়ে মাকে বলবে "মা তোমার জন্য ব্রেকফাস্ট বানিয়েছি..." বিষয়টা আসলেই অনেক সুইট ছিল ... ভাবতেই চোখে পানি চলে আসে...

গতকাল ছোট ভাই শাতীল একটা লিংকু পাঠালো ম্যাসেঞ্জারে... সাথে এটাও বললো "যাইয়া একটা চড় মাইরা আসেন"... পড়লাম... চড় মারার কথা মাথায় এলো না... ভাবলাম আমরাতো এইটুকুও করি না... ওদের যেই ভাবনাটি ছিল ... আমারা বড়রা তো সেভাবে ভাবি না
:(



একটা চেইন মেইল ... যার বক্তব্য এরম...

কোন এক বাদল দিনে... বাইরে প্রচণ্ড বৃষ্টি... কাক ভেজা হয়ে বাসায় ফিরছি... ছোট ভাইটা দেইখাই কইলো সকালে বের হওয়ার সময় ছাতাটা সাথে নিলে তো এরম ভিজন লাগতো না... বোনটা উপদেশ ঝাড়ল “বৃষ্টি থামার পর বাসায় আসলে তো এরম কাক ভেজা হতে হতো না”। আর ওইদিকে বাপজান রাইগা আমারে কতক্ষণ ধমকাইয়া কইলো যে, “যখন জ্বর-জারি আইবো তখন বুঝবা ঠেলা”।

কিন্তু আমার মা জননী? কোন কথাই বললো না... দ্রুত কাছে এসে আঁচলটা দিয়ে মাথাটা মুছে দিচ্ছিল আর বলতে ছিলা হারামজাদা বৃষ্টি... একটু পরে আসলে কি হৈত? আমার বাবাটা বাসায় পৌঁছার পর আসলে কি খুব সমস্যা হতো?

এটাই হলো আমাদের মা




ঠিক সকাল ৯টার মধ্যেই যেভাবেই হোক অফিসের দরজায় কড়া নাড়তে হবেই। ক্ষমাহীন পাষণ্ড কর্মস্থলের কর্পোরেটীয় আচরণ। প্রস্তুতির জন্য নীদ্রাদেবীর সাথে বিমাতীয় ব্যবহার। মায়ের ঘড়ের বাতাস ভারী... সিলিং ফ্যানের যাত্রা বিরতি... কারণ? আমার প্রিয় মা জননীর শরীর ভালো নেই... কোথায় মুড়ান মা আমার শয্যাশায়ী ... কপাল উত্তপ্ত...জেগে উঠেই বললেন “কিছু হয় নাই”... তোর অফিসে দেরি হয়ে যাচ্ছে... :( ... কি বলি... এই মায়ের মিথ্যার সাথে আমি পরিচিত... প্রচণ্ড জ্বর নিয়েও বলবে তার কিছুই হয়নি ... আমরা হুদাই চিন্তা করি :(

মা আমার জন্য প্রতিদিন... মা আমরা তোমার জন্য প্রতিদিন... বিশেষ একটি দিনে তুমি আবদ্ধ নও...

সোনালী অতীত ৮০-৯০+ :: নষ্টালজিয়া - ২

ঠিক এরম সময়ে ... গ্রীষ্মের কাঠ ফাটা দিনগুলোতো আম-কাঁঠালের সময়.. স্কুল ছুটি থাকত ... তখন অবশ্য সামার ভ্যাকেশন ছিল না .. ছিল আম-কাঁঠালের বন্ধস্কুল ছুটি মানে নানা বাড়ি যাওয়া অবশ্যম্ভাবী... কোন গাছের কোন আমটা পেকেছে.. সব তখন থাকত নখ দর্পণেআর গাছে চড়লেই টারজান টারজান ভাবও চলে আসতগাছ থেকে ডাল ভেঙ্গে পরার স্মৃতীও ছিল

এমনিতে স্কুলের সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে দুপুরে খাওয়া শেষে আম্মা যখন কানে ধরে বিছানায় পাঠাত ... মন খারাপ করে বিছানায় এপাশ ওপাশ... কখন আম্মার চোখটা বন্ধ হবে... আর ছুটবো টিভির দিকে.... বেলা তিনটার চল্লিশ (সম্ভবত) এ শুরু হতো টারজানসাউন্ড কমিয়ে বোবা ছবি দেখতাম... প্রতিটা ঘটনা... পরের ঘটনা... গাছের ডালে দরি ঝুলিয়ে টারজান হওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা ... পুকুরের ঘাটলা থেকে টারজানের চিৎকার দিয়ে জাম্প দিয়ে পড়া ... সব কিছুই অনুকরণের চেষ্টা চলত

পরবর্তী সময়ের আরো কিছু কার্টুন জনপ্রিয় ছিলথান্ডার ক্যাটস, নিনজা টার্টেল স্পেল বাইন্ডার, থ্রি স্টুজেস, গার্ল ফ্রম টুমোরো, কজবি শো, সহ বেশি কিছু কিডজ শো

সেই আমলে বাড়ির বড়দের মুখে মুখে আলোচিত হতো সকাল সন্ধ্যা এবং ঢাকায় থাকি সিরিয়াল

সকাল সন্ধ্যা একটি বাংলা ধারাবাহিক নাটকের নাম১৯৮০-র দশকের শুরুতে এটি বিটিভি-তে সম্প্রচার হয়প্রধান চরিত্রে ছিলেন পীযুষ বন্দোপাধ্যায় এবং আফরোজা বানু তৎকালীন সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় নাটক। - বাংলা ইউকিপিডিয়া

এর পরের সময়গুলোতে আরো অনেক নাটক বিপুল জনপ্রিয়তা পেয়ে ছিল ... বহুব্রীহি, সংশপ্তক, এই সব দিনরাত্রি, কোথাও কেউ নেই, বারো রকমের মানুষ, ইত্যাদিপ্রায় ঈদেই আমজাদ হোসেনের ফানি নাটক জব্বর আলি সিরিজ পাওয়া যেত (সব ঈদে নয়)আনন্দমেলা ছিল ঈদের প্রধান আকর্ষণ এবং যথারীতি নিরানন্দেরতখন এক একটা নাটক ছিল প্রায় এক ঘন্টার আর প্রতি সপ্তাহে নাটক ছিল মাত্র দুটাআর তাই ভাল ভাল নাটকের প্রতিযোগিতা চলত সেই সময়েবর্তমান প্রজন্মের জন্য মায়াই লাগে... তাদের কপালে এইসব আর জুটবে না


সংশপ্তক নাটকে হুমায়ুন ফরিদির এবং ফেরদৌসি মজুমদারের দুর্দান্ত অভিনয়


কোথাও কেউ নেই নাটকে আসাদুজ্জামান নুর সে সময় একটা স্টাইল ক্রিয়েট করেছিলেন... বাইকের চাবিটা একটা চেন এর মাথায় লাগিয়ে হাতের আঙ্গুলে ঘুরানো... যেটা ঢাকার রাস্তায় অনেক কেই দেখা যেতআবার নাটকের শেষ দৃশ্যে তার মৃত্যুর জন্য তো ঢাকা রিতিমত মিছিলএখনো বাকের ভাইয়ের জন্য পুরানা ঢাকায় কুলখানি হয়


আজ রোববার হুমায়ুন আহমেদের আরেকটি ক্রিয়েশনযেখানে তিতলি ভাইয়া, কংকা ভাইয়া... বড় চাচা না কফিনের মধ্যে শুয়ে আছেফানি সব ক্যারেক্টারবহুব্রীহি নাটকটি্ও ফানি নাটক

অয়োময়ের জনপ্রিয়তা আলাদা করে বলার মতআসাদুজ্জামানের অভিনয়ের তুলনা শুধু তিনিই ছিলেন


পরের সময়টায় ... আমরা ছোট পর্দার নায়িকা হিসেবে পাই বিপশা হায়াত.... সমী কায়সার... আর আফসানা মিমিকেবিশেষ করে সমীর ভক্ত ছিলাম ;) ... পরে সমী বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলে ব্যাপক কষ্ট পাই :( ... বিপাশার একটা ইনোসেন্ট লুক ছিল ... সমীর অভিনয় ছিল দুর্দান্ত ... আর আফসানা মিমি? তাকে দেখলেই মনে হতো স্কুল থেকে ফির'ল মাত্র ;)এদের সমসাময়িক ছিলেন বিজরি বরকতুল্লাহ


বিটিভির দাপুটে অভিনেতাদের মধ্যে প্রথমেই আফজালের ক্রেজ ছিল মেয়ে মহলে ;)... হুমায়ুন আহমেদের দুর্দান্ত অভিনয়ের মাঝেও আসাদুজ্জামান নুরের অবস্থান ছিল স্ব-মহিমায় উদ্ভাসিততখন মেঘনা নামের একজন টিভি নায়িকা ছিলযিনি এখন আর টিভিতে আসেন নাআর বিশেষ ভাবে ছিলেন সুবর্না মুস্তাফাআলি যাকের .. সারা যাকের... আবুল হায়াত... আবুল খায়ের... পীযুষ... আসাদ ... খালেদ খানদের অভিনয় ছিল সত্যি দেখার মত


এর পর আসে তৌকির একটা এডিক্টেড নাটকের নায়ক হওয়ার সুবাদে তাকে সব সময় তাই মনে হতজাহিদ হাসানতো পুরা মফিজ টাইপ ;) (এটাও নাটকের সুবাদে), আজিজুল হাকিম ছিলেন চিরসবুজ... তার আরো একটি নাম ছিল .. প্যাকেজুল হাকিম ;), শহীদুজ্জামান সেলিমদের যুগ

(
চলবে)


লেখাটি বাধভাঙার আওয়াজে প্রকাশিত


 

Copyright 2006| Blogger Templates by GeckoandFly modified and converted to Blogger Beta by Blogcrowds.
No part of the content or the blog may be reproduced without prior written permission.